৩৬ টাকা কেজিতে ধান, ৪৯ টাকায় সিদ্ধ চাল
বোরো মৌসুমে ১৮ লাখ টন ধান-চাল কিনবে সরকার

গ্রাফিক্স: আগামীর সময়
দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী বোরো মৌসুমে ১৮ লাখ টন ধান-চাল কেনার কথা জানালেন খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি ৫০ হাজার টন গমও সংগ্রহ করা হবে।
আজ বুধবার খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভা শেষে তথ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ধান, চাল ও গম সংগ্রহ শুরু করা হবে ৩ মে থেকে। চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। আগের দামেই চলতি বোরো মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহ করা হবে। প্রতি কেজি ধান কেনা হবে ৩৬ টাকায়। সিদ্ধ চালের ক্ষেত্রে প্রতি কেজি ৪৯ টাকা এবং আতপ চালের ক্ষেত্রে ৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি বছরের সংগ্রহ মৌসুমে ৫ লাখ টন ধান, ১২ লাখ টন সিদ্ধ চাল এবং ১ লাখ টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে। এ ছাড়া গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫০ হাজার টন। যদিও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও কৃষকদের অনাগ্রহের কারণে গম সংগ্রহে অতীতে তেমন সাফল্য পাওয়া যায়নি। গত বছরও একই দামে বোরো ধান-চাল সংগ্রহ করেছিল সরকার।
সালাউদ্দিন আহমদের ভাষ্য, দেশে মোট খাদ্যশস্যের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৮০ লাখ টন। এর বিপরীতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন গড়ে ৭০-৭২ লাখ টন। বাকি চাহিদা পূরণে সরকার প্রতি বছর আমদানি করে প্রায় ৮ লাখ টন খাদ্যশস্য। সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তি অথবা উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াটি করা হয়।
‘দেশের নিরাপদ খাদ্য মজুদের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ লাখ টন। এটি সবসময় বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। বর্তমানে দেশে মোট খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে ১৭ থেকে ১৮ লাখ টন,’ যোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আগামীতে খাদ্য মজুদ বাড়িয়ে ২৪ থেকে ২৫ লাখ টন করার পরিকল্পনা সরকারের। এ লক্ষ্যে চলতি মৌসুমে সংগ্রহ কার্যক্রম জোরদার করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রাখা হয়েছে আমদানি বাড়ানোর সুযোগও। পরিস্থিতি ও চাহিদা অনুযায়ী সমন্বয় করা হবে খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও মজুদের লক্ষ্যমাত্রা। যাতে নিশ্চিত রাখা যায় দেশের খাদ্যনিরাপত্তা।





