রাজধানীর অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে শুধু তেল নয় গ্যাসেরও সংকট

সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সংকট অনেকদিন ধরেই। অধিকাংশ স্টেশনের সামনে ‘গ্যাস নাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা গেল। ছবি: আগামীর সময়
ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি তেল-গ্যাসের সংকটের প্রভাব পড়েছে দেশেও। শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোর দৃশ্য প্রায় একই। সরবরাহ কম থাকায় অনেক স্টেশনের সামনে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘তেল নেই/ গ্যাস নাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড। তাতে ভোক্তাদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই।
গ্যাসের অভাবে রাজধানীর অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে বিক্রি বন্ধ। তাতে চরম ভোগান্তিতে আছেন চালক ও যাত্রীরা। মঙ্গলবার রাজধানীর বকশীবাজার, মিরপুর রোড ও কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ এলাকার কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে পাওয়া গেল তীব্র গ্যাস সংকটের তথ্য।
সকাল থেকে যানবাহনে কিছু গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংকটের ছাপ স্পষ্ট। প্রেশার কমতে থাকায় বন্ধ করে দেওয়া হয় গ্যাস। দৈনিক চাহিদার তুলনায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে যাওয়ার প্রভাব দেখা গেল সিএনজি স্টেশনগুলোতে।
গ্যাস দিতে দিতে হঠাৎই বন্ধ হয়ে যায় দেওয়া। ছবি : আগামীর সময়
বকশীবাজারে অবস্থিত সোনার বাংলার সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় বন্ধ রয়েছে গ্যাস সরবরাহ। অলস সময় পার করছেন স্টেশন অ্যাটেনডেন্টরা। কথা হয় দায়িত্বে থাকা ইঞ্জিনিয়ার লিটন দাসের সঙ্গে। তিনি আগামীর সময়কে জানান, ‘সকাল থেকে লাইনে গ্যাস নাই। বেশ কিছুদিন ধরে আছে সমস্যাটি। ভোর ৬টা থেকে কখনো কখনো রাত পর্যন্ত থাকে না গ্যাস। রিজার্ভ থেকে সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত গ্যাস দিতে পারলেও পরে আর সম্ভব হয় না দেওয়া। যখন গ্যাস আসে তখন আবার দেই।’
একই চিত্র দেখা গেল মিরপুর রোডে অবস্থিত মেঘনা ফিলিং স্টেশনে। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে নারাজ স্টেশন কর্তৃপক্ষ। গ্যাস না থাকায় নেই গাড়ির লম্বা লাইন।
গ্যাস নেই, তাই যানবাহনের চাপও নেই। অলস সময় পার করছেন কর্মীরা। ছবি : আগামীর সময়
এদিকে ভিন্ন চিত্র দেখা গেল কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত পূর্বাচল ট্রেডার্স স্টেশনে। এখানে চোখে পড়ল যানবাহনের লম্বা লাইন। সকাল থেকে স্টেশনটিতে গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বন্ধ করে দেওয়া হয় দুপুর আড়াইটার দিকে। তখনও পেছনে প্রাইভেট কার ও সিএনজির দীর্ঘ সারি।
স্টেশনটির অ্যাটেনডেন্ট মোহাম্মাদ আলী জানালেন, ‘সকাল থেকে গ্যাস দিচ্ছি। এখন গ্যাসের প্রেশার কম, তাই বন্ধ সরবরাহ। প্রেশার ফিরে আসলে আবার দেওয়া হয়ে। ২ ঘণ্টা গ্যাস দিলে বন্ধ রাখতে হয় এক ঘণ্টা।’
এসময় সরকারি নির্দেশনার কথা মনে করিয়ে দিলেন তিনি। ‘আমাদের যতটুকু সাপ্লাই প্রয়োজন তার থেকে কম আছে। সরকার থেকে বলা হয়েছে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত স্টেশন বন্ধ রাখতে। এছাড়া বাকি সময় গ্যাস দেওয়ার নির্দেশনা আছে। এ সমস্যা চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।’
ভোক্তাদের তথ্য অনুযায়ী গ্যাস সংকটই সবচেয়ে তীব্র। স্টেশনগুলোতে গাড়ির লাইনও কমে গেছে। ছবি : আগামীর সময়
স্টেশনটির সামনে যানবাহনের সারি ছাড়িয়ে গেছে কয়েকশ মিটার। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও নিতে পারছেন না গ্যাস। কেউ কেউ ফিরছেন খালি হাতে। চালকদের অভিযোগ, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় স্টেশনগুলোতে নেই পর্যাপ্ত সরবরাহ। ফলে দিনে সীমিত সময় দেওয়া হচ্ছে গ্যাস।
গ্যাস নিয়ে ভোগান্তির কথা জানালেন মো. কবির নামের এক প্রাইভেট কারচালক। তার অভিযোগ, তেলের সমস্যাটা নতুন কিন্তু গ্যাসের সমস্যা বহু আগের। প্রায় প্রতিদিনই গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা করতে হয় অপেক্ষা।
কথা হয় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজিচালক আফজাল হোসেনের সঙ্গে। তিনিও জানালেন ভোগান্তির কথা। ‘অনেকক্ষণ থেকে দাঁড়িয়ে আছি লাইনে। আস্তে আস্তে যাচ্ছিলাম সামনে। এখন শুনি গ্যাসের চাপ কম। তাই গ্যাস দেওয়া বন্ধ। সকাল থেকে মাত্র একটা খ্যাপ মারছি। এখন গ্যাস না পেলে বসে থাকতে হবে। এ সমস্যা নতুন না, আগেরই,’ বলছিলেন তিনি।



