জঙ্গি সন্দেহে মালয়েশিয়া থেকে ফেরত পাঠানো যুবক রিমান্ডে

ফাইল ছবি
জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে মালয়েশিয়া থেকে ফেরত পাঠানো বাংলাদেশি যুবক মাসুদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে হামাস, তালেবান ও আল-কায়েদার বিভিন্ন ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করায় জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে মাসুদুরকে আটক করে সেদেশের পুলিশ।
বুধবার বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে বাংলাদেশ পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট তাকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও শুনানি শেষে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর আগে মাসুদুরকে আদালতে হাজির করেন বিমানবন্দর থানার এসআই আমিনুল ইসলাম।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, ‘এ আসামি জানায়, যে কোনো সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে জঙ্গি হামলার সম্ভাবনা বিদ্যমান। বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া গিয়ে ধর্তব্য অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে তথ্য প্রমাণ পাওয়ায় মালয়েশিয়া পুলিশ তাকে আটক করে। মালয়েশিয়ার আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা শেষে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।’
মাসুদের বিষয়ে তদন্তের জন্য তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানোর কথা তুলে ধরে আবেদনে বলা হয়, ‘এ আসামি বাংলাদেশের কোনো নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সাথে জড়িত কিনা, কোনো ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার করে নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন কিনা এবং জঙ্গি কার্যক্রমের অর্থের যোগানদাতা কে বা কারা তা জানা, বাংলাদেশে তাদের অস্তিত্ব আছে কিনা এবং আন্তর্জাতিক নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের সাথে জড়িত আছে কিনা তা জানার জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের প্রয়োজন।’
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তবে মাসুদের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে ছিলেন না।
রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির কাছে জানতে চান মালয়েশিয়ায় তিনি কতদিন আগে গেছেন? মাসুদুর উত্তরে বলেন, চার বছর। সেখানে কোথায় কাজ করতেন তা বিচারক জানতে চান। মাসুদ বলেন, ‘প্লাস্টিক কোম্পানিতে।’
ফেসবুকে লেখালেখি করতেন কিনা সেই প্রশ্নে মাসুদুর উত্তর দেন, ‘তালেবান, হামাসের পক্ষে লেখালেখি করেছি।’
বিচারক জানতে চান, কেন লেখালেখি করতেন? জবাবে মাসুদ বলেন, ‘তারা ইসলামী মাইন্ডের। এজন্য ভালো লাগে। তাদের পক্ষে লেখালেখি করেছি।’
তালেবান, হামাসের সাথে যোগাযোগ আছে কিনা প্রশ্ন করলে মাসুদ বলেন, ‘না। তাদের পক্ষে পোস্ট করতে ভালো লাগে।’
বিচারক তখন বলেন, ‘বিদেশে গেছেন অর্থ উপার্জন করতে। লেখালেখি করতে না।’ তখন মাসুদ বলেন, ‘এ বিষয়ে জানি না। জানলে লেখালেখি করতাম না।’
এরপর বিচারক বলেন, ‘বুঝে না বুঝে নিজেকে বিপদে ফেলেন, অন্যদেরও বিপদে ফেলেন।’ শুনানি শেষে বিচারক তাকে ২ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

