গান, নাচ, ফ্যাশন শোতে ঠাকুরবাড়ি ও রবীন্দ্র সাহিত্যের নারীরা

গান, নাচ ও ফ্যাশন শো-এর এক ছন্দময় উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে ঠাকুরবাড়ি এবং রবীন্দ্র সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য নারী চরিত্রগুলোর রূপায়ন হয়ে গেল রাজধানী ঢাকার মঞ্চে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ব্যতিক্রমী এই আয়োজনটি ছিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুলশানের একটি হোটেলে।
একঝাঁক শিল্পী ও কলাকুশলী তাদের অনবদ্য উপস্থাপনার মাধ্যমে মঞ্চে হাজির করেছিলেন 'শেষের কবিতা'র লাবণ্য, 'গোরা'র সুচরিতা, 'নষ্টনীড়ে'র চারুলতা, 'ঘরে-বাইরে'র বিমলা, নৃত্যনাট্য থেকে চিত্রাঙ্গদা, চন্ডালিকা এবং শ্যামাসহ অনেককে।
ঠাকুরবাড়ির নারীদের মধ্যে কাদম্বরী দেবী, জ্ঞানদানন্দিনী, স্বর্ণকুমারী, সরলা, ইন্দিরা দেবী, মৃণালিণী দেবী, মাধুরীলতা, রেণুকা, মীরাদেবীর মত চরিত্র প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে সবার মাঝে।
লাবণ্য চরিত্র রূপায়ণ করেন রিপা ও বিমলার চরিত্র রূপায়ণ করেন ইলা। গিরিবালাকে ফুটিয়ে তুলেছেন রুনি। সাদিয়া ফুটিয়ে তুলেছেন মৃণালিনীকে। চারুলতাকে ফুটিয়ে তুলেন সানজিদা। সুচরিতা ও নন্দিনীর চরিত্র রূপায়ণ করেন যথাক্রমে রিফাত ও বাবলি।
রবীন্দ্রগীতি ও নৃত্যনাট্যে শ্যামা চরিত্রটি করেছেন সাবা। চিত্রাঙ্গদাকে ফুটিয়ে তুলেছেন অন্তরা ও চন্ডালিকা চরিত্র রূপায়ণ করেছেন সুস্মিতা। ভানু সিংহের পদাবলিতে নৃত্য পরিবেশন করেন সামিনা হুসেন প্রেমা।
রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করেন স্বপ্নিল সজীব, ফারহিন খান জয়ীতা, মহুয়া মঞ্জুরী ও সেমন্তী মঞ্জুরীসহ অনেকে। কাব্যপাঠ ও ধারাবিবরণীতে ছিলেন ত্রপা মজুমদার ও আশিকুল ইসলাম।
এই আয়োজনটি দেশের ফ্যাশন শো জগতের এক নতুন সংযোজন। এর মধ্য দিয়ে ঠাকুর বাড়ি এবং রবীন্দ্র সাহিত্যের নারীদের পোশাক, সাজ-সজ্জা, স্টাইল ও ব্যক্তিত্বকে রূপায়ণ করা হয় নিখুঁতভাবে।
বাংলা সাহিত্য, কাব্য, সুর, সংগীত, সংস্কৃতি, সভ্যতা এবং ঐতিহ্যকে এক মঞ্চে একাকার করে দেওয়ার মতো প্রচেষ্টা ছিল এই আয়োজনটিতে। মঞ্চসজ্জা থেকে শুরু করে সমগ্র প্রযোজনাটি কানায় কানায় পূর্ণ ছিল বাঙালিয়ানায়।
‘নব আনন্দে জাগো’ শিরোনামে এই অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব বাংলাদেশ, ভারতীয় হাইকমিশন, বাংলাদেশ এবং ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। সন্ধ্যা ছয়টা থেকে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটি সংগীত, আবৃতি, গীতিনাট্য, নৃত্যনাট্য এবং ফ্যাশন শো-এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় রাত ১০ টায়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সাহিত্য, সংগীত ও কাব্যসহ সমাজ, রাষ্ট্র, মানবতা এবং বিশ্বশান্তির জন্য রবীন্দ্রনাথের অবদান তুলে ধরে বক্তব্য দেন ভারতীয় হাই-কমিশনার প্রণয় ভার্মা।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিবার এবং ঠাকুরবাড়ি ও রবীন্দ্র সাহিত্যের নারীদের নিয়ে তার এই ভাবনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বক্তব্য দেন ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব বাংলাদেশের সভাপতি মাহীন খান।
এর আগে স্বাগত বক্তব্য দেন ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব বাংলাদেশের সাধারন সম্পাদক শৈবাল সাহা।






