আল-জাজিরাকে অটোরিকশা চালক
‘আমরা সুযোগটা হারিয়েছি— ড. ইউনূসকে ঠিকমতো কাজ করতে দেইনি’

ফাইল ছবি
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এর তিনদিনের মাথায় ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন বাংলাদেশের একমাত্র নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
ইতিহাসের অন্যতম রক্তাক্ত জুলাই অভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০’র বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করার দায়িত্ব দেওয়া হয় ড. ইউনূসকে।
তবে দীর্ঘদিনের শাসক শেখ হাসিনার পতনের পর যে বিরল সুযোগ তৈরি হয়েছিল, বাংলাদেশিরা তা নষ্ট করেছে বলে মনে করেন অটোরিকশা চালক রুবেল চাকলাদার।
রুবেল চাকলাদার বলেন, ‘আমরা সুযোগটা হারিয়েছি। আমরা ড. ইউনূসকে ঠিকমতো কাজ করতে দেইনি। কে তার কাছ থেকে অযৌক্তিক দাবি নিয়ে রাস্তায় নামেনি? এই দেশ আর কখনো ভালো হবে না। জুলাইয়ে মানুষ জীবন দিয়েছে—সবই বৃথা।’
জানুয়ারির শেষদিকে ঢাকার ব্যস্ত সড়কে অটোরিকশা চালাতে চালাতে ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে এসব কথা বলছিলেন রুবেল চাকলাদার।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে— হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলজুড়ে স্বৈরতান্ত্রিকতা, বিরোধী দমনের অভিযোগ এবং ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা উঠে এসেছে।
৮৫ বছর বয়সী ইউনূস সীমিত হলেও উচ্চাকাঙ্ক্ষীভাবে তার দায়িত্বের পরিধি নির্ধারণ করেন—বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা এবং স্বৈরতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে সংস্কার নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা।
কিন্তু চাকলাদারের মতে, এখানেই ব্যর্থ হয়েছে নানা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী—প্রশাসনের ভেতরের কর্মকর্তা ও তীব্রভাবে বিভক্ত রাজনৈতিক দলগুলো। তার ধারণা, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনামলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার মতো সমর্থন তিনি পাননি।
ইউনূস এখন দায়িত্ব ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার তত্ত্বাবধানে হতে যাচ্ছে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশের প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন বলে বিবেচিত একটি ভোট। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম অস্বাভাবিক রাজনৈতিক রূপান্তরের অধ্যায় শেষ হতে যাচ্ছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিকে এগোতে থাকায় ইউনূসের উত্তরাধিকার নিয়ে তর্ক-বিতর্ক এরই মধ্যে তীব্র হয়ে উঠেছে। যারা একসময় তার ওপর ভরসা রেখেছিলেন, তারাই এখন বিভক্ত।
এই বিতর্কের কেন্দ্রে প্রশ্ন একটাই—ইউনূস কি সেই স্থির হাত ছিলেন, যিনি ভঙ্গুর রাষ্ট্রকে ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করেছেন? নাকি তিনি সেই নেতা, যিনি ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পেছনে থাকা আন্দোলনের প্রত্যাশিত কাঠামোগত পরিবর্তন দিতে ব্যর্থ হয়েছেন?
অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের কাছে ইউনূসের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও দেশের ভেতরে নাগরিক সমাজের নেতা হিসেবে সুনাম ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতি যাতে ধসে না পড়ে, সে আশ্বাস বিশ্বকে দেওয়ার প্রয়োজন ছিল।
সূত্র: আল-জাজিরা

