দুটি শপথ নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর এমপিরা

সংগৃহীত ছবি
সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর এমপিরা।
আজ মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার পর জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথগ্রহণ কক্ষে প্রথমে তাদের সংসদ সদস্যের শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
এরপর তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন। শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশন কমিশনার।
এর আগে বেলা ১১টার কিছু আগে প্রথমে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়। যার মধ্যে ২৯৭ আসনের ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও দলটির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। বিএনপির শরিকরা জয় পেয়েছে ৩টি আসনে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী জয় পেয়েছে ৬৮টি আসনে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য শরিকরা পেয়েছে ৯টি আসন। তাদের মধ্যে এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসনে বিজয়ী হয়েছে।
এছাড়া ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসনে জয়ী হয়েছে। বাকি সাতটি আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
এর আগে জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘আমরা দুই শপথ গ্রহণ করছি! জান দেবো... জুলাই দেবো না!’
সকালে যদিও দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‛বিএনপি যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেয়, জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কোনো শপথই নেবেন না। কারণ তারা মনে করেন, সংস্কারবিহীন সংসদ অর্থহীন।’
শপথের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সংসদ ভবনে বৈঠকে বসেন জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১ দলীয় জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।
এসবের মধ্যেই ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আইন অনুযায়ী বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় কোনো শপথই নেবে না ১১-দলীয় জোট।’
তবে বৈঠক শেষে সিদ্ধান্ত পাল্টে বিরোধী দল ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।

