আগামীর সময়

নির্বাচনে বৃহত্তর স্বার্থ প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

নির্বাচনে বৃহত্তর স্বার্থ প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

সংগৃহীত ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশগ্রহণ করা প্রত্যেক প্রার্থীকে ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের উর্ধ্বে গিয়ে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন শুধু আরেকটি নিয়মিত নির্বাচন নয়; এটি একটি গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবিচারের বিরুদ্ধে জনগণের যে জাগরণ দেখা গেছে, এই নির্বাচন তার সাংবিধানিক বহিঃপ্রকাশ। রাজপথে উচ্চারিত পরিবর্তনের দাবি এবার ব্যালটের মাধ্যমে প্রকাশ পেতে যাচ্ছে। ফলে এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।

নির্বাচনের গুরুত্ব বোঝাতে তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন নয়, বরং বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে; বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রের দিকে, নাকি আবারও ক্ষমতাকেন্দ্রিক পুরোনো বৃত্তে ফিরে যাবে সে সিদ্ধান্তই দেবে জনগণ। নির্বাচনের ফল যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। বিজয় ও পরাজয় উভয়ই গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ করে নির্বাচনের পর সবাইকে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার বক্তব্যে তরুণ ও নারী ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, গত ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও তারা প্রকৃত অর্থে ভোট দিতে পারেননি। ভোটের মুখোশ থাকলেও ভোটাধিকার কার্যকর ছিল না। তবুও তারা আশা ও স্বপ্ন ধরে রেখেছে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিবর্তনের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

নারীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সব গণআন্দোলনে নারীরাই ছিল অগ্রভাগে। অর্থনীতি, পরিবার ও সমাজে নারীরা শক্ত ভিত গড়ে তুললেও দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে মত প্রকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এই নির্বাচন তাদের জন্য এক নতুন সূচনা।

তরুণদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই ভোট তাদের প্রথম সত্যিকারের রাজনৈতিক উচ্চারণ। তাই ভয়কে পেছনে রেখে সাহস নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে বলেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, এটি ১৭ বছরের নীরবতার জবাব দেবে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট করবে এবং প্রমাণ করবে বাংলাদেশ আর কখনো তার জনগণের কণ্ঠ হারাতে দেবে না।

    শেয়ার করুন: