গণমাধ্যমের পরিবেশ হবে ভয়মুক্ত: তথ্যমন্ত্রী

অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে অন্তত ১১৯টি ঘটনায় ২৪৩ জনের বেশি সাংবাদিক নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। হত্যাসহ নানা মামলা জড়িয়েছে একশোরও বেশি সাংবাদিকের নাম। আছে পেশাগত দায়িত্বে পালনে গিয়ে নির্যাতন, হয়রানির ঘটনা। হত্যার শিকার অন্তত ছয় সাংবাদিক।
এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েই সাংবাদিকদের জন্য ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিলেন নতুন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, ‛সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলন ও দীর্ঘ সংগ্রামের পথে গণমাধ্যমের ভূমিকা রাজপথের কর্মীদের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়... গণমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোও ছিল একেকটি আন্দোলনের ক্ষেত্র। আমরা অন্যান্য সহযোদ্ধাদের যেভাবে মূল্যায়ন করছি, গণমাধ্যমকেও সেভাবেই সম্মান জানানো হবে।’
নির্বাচনের আগে ও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও গুজবের বিস্তার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‛তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে সারা বিশ্বেই এটি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রযুক্তির ক্ষমতা যেমন সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে। বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভেবে-চিন্তে এগোতে হবে।’
ভয়মুক্ত সাংবাদিকতার প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‛গণমাধ্যমের মতো সম্মানিত পেশায় যারা কাজ করেন, তাদের যদি সবসময় নজরদারির মধ্যে থাকতে হয়, তা কাম্য নয়... প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গুরুত্ব পেয়েছে। তাই দেশে ভয়মুক্ত গণমাধ্যম পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।’
নতুন সরকারের পক্ষ থেকে দেশের সাংবাদিক, গণমাধ্যমের নীতিনির্ধারক, গণমাধ্যম উদ্যোক্তা ও তাদের পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। নির্ভেজাল তথ্য পৌঁছে দেয়া গণমাধ্যমের মূল লক্ষ্য উল্লেখ করে সেই নীতির আলোকে সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে ২৪৩ জনের বেশি সাংবাদিকের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছে মিডিয়া ওয়াচডগ ও থিংকট্যাক বাংলাদেশ মিডিয়া মনিটর (বিএমএম)।
সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে সাংবাদিকদের তুলে নিয়ে যাওয়া ও দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার অন্তত ১০ ঘটনায় ৩২ জন সাংবাদিককে কারাবরণ ও জবাবদিহি করানো হয়। পাঁচ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সংবাদ করার কারণে মামলা হয় ও মামলার হুমকি দেয়া হয়। হামলা হয় প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যে, ২০২৪ এর আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩০ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হয় হত্যা মামলা। পরের বছরেও মামলা হয় ৫২ জন সাংবাদিকের নামে।
আসক বলছে, ২০২৫ সালে পেশাগত দায়িত্ব পালনে গিয়ে নিপীড়নের শিকার ১১৮ জন সাংবাদিক।
সম্প্রতি মানবাধিকার সহায়তা সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৭ মাসে সাংবাদিকদের ওপর ৪২৭টি হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত হন ছয় জন। এছাড়াও নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হন অন্তত ৮৩৪ সাংবাদিক।

