আগামীর সময়

কারিগরি দক্ষতায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেবে চীন

কারিগরি দক্ষতায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেবে চীন

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা, প্রযুক্তি ও ভাষা সহযোগিতা জোরদারে ঢাকায় এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাংলাদেশের শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ, চীনা ভাষা শিক্ষা বিস্তার এবং যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

চীনা ভাষা শিক্ষার সম্প্রসারণে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ। এছাড়া চলতি বছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

চীনা রাষ্ট্রদূত জানান, প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে চীনা ভাষা শিক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশে কার্যরত প্রায় এক হাজার চীনা প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভাষা দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বিশ্বের অন্তত ১৭টি দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।

কারিগরি ও পলিটেকনিক শিক্ষার আধুনিকায়নে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসমূহ পরিদর্শন করে কারিকুলাম হালনাগাদ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিল্পখাতের চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী কোর্স ও প্রশিক্ষণ কাঠামো পুনর্বিন্যাসের কথাও উঠে আসে।

চীনা ভাষা শিক্ষার প্রসারে প্রাথমিকভাবে ৩০০টি স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ১৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুটি করে শ্রেণিকক্ষ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি নয়টি ব্রডকাস্টিং সেন্টার স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট ল্যাবসমূহে আধুনিক সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একটি পাইলট প্রকল্প ইতোমধ্যে চালু রয়েছে।

চীনা পক্ষ জানায়, দক্ষিণ আফ্রিকা, কম্বোডিয়া ও লাওসসহ বিভিন্ন দেশে তারা সফলভাবে চীনা ভাষা ও কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ করেছে।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য একটি আধুনিক আবাসিক হল নির্মাণে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রয়োজনভিত্তিক শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা চীনা পক্ষের সঙ্গে শেয়ার করা হবে বলে জানানো হয়।

বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলকে চীনে স্টাডি ট্যুরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যাতে তারা কারিগরি ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানসমূহ সরেজমিনে পরিদর্শন করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। একই সঙ্গে চীনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে এসে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নে সুপারিশ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। চীনা পক্ষ আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেলে যৌথভাবে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা ও চাহিদাপত্র পাঠাবে বলে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এ সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের শিক্ষা ও প্রযুক্তি সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং দেশের যুবসমাজ আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জনে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা-সংক্রান্ত ইশতেহারের আলোকে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবে।

    শেয়ার করুন: