আগামীর সময়

টাকা খরচে ব্যর্থতা : অর্থনৈতিক শুমারি প্রকল্পের বরাদ্দ কাঁটছাট

টাকা খরচে ব্যর্থতা : অর্থনৈতিক শুমারি প্রকল্পের বরাদ্দ কাঁটছাট

ফাইল ছবি

টাকা খরচ করতে না পারায় ‘অর্থনৈতিক শুমারি’ প্রকল্পের বরাদ্দ কাঁটছাট করা হচ্ছে। এর আগেও মূল বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) থেকে এক দফা কমেছিল বরাদ্দ। এবার সংশোধিত এডিপি থেকেও বরাদ্দ কমানোর আবেদন জানানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।

বিবিএস সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বাস্তবায়নাধীন ‘অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৩’ শীর্ষক প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনীর প্রশাসনিক অনুমোদন করা হয় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর। ওই সময় প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয় ৫২৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি তহবিলে শুরু হওয়া প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদকাল ছিল ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এখন নতুন করে বর্ধিত মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালে ডিসেম্বর পর্যন্ত।

জানা যায়, প্রকল্পের অনুকূলে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপিতে ৪৭ কোটি টাকবা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু সময়মতো খরচ করতে না পারায় সংশোধিত এডিপিতে কাঁটছাট করা হয় ১০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। সেসময় বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এখন সংশোধিত এডিপি থেকে ফের ১৭ কোাট ৯৮ লাখ টাকা কাঁটছাট করে নতুন বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বাকি ১৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে স্থানান্তর এবং এএমএস সফটওয়্যারে এন্ট্রি করার জন্য গত ১১ মার্চ অনুরোধ জানানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ মার্চ পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগ থেকে কার্যক্রম বিভাগে একটি চিঠি পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে প্রকল্পটির পরিচালক ড. দীপঙ্কর আগামীর সময়কে বলেন, প্রকল্পের সঙ্গে নতুন কম্পোনেন্ট যুক্ত করা হয়েছে। যেমন শুমারিতে পাওয়া তথ্য দিয়েই স্টাটিসটিক্যাল বিজনেস রেজিস্ট্রার তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) শিল্পের একটি সার্ভে পরিচালনা করা হবে। এসব নতুন কাজের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ প্রয়োজন হবে না। আমরা প্রকল্পটির ‘নো কসট এক্সটেনশন’ ( ব্যয় বাড়ানো ছাড়া মেয়াদ বৃদ্ধি) করেছি। তবে মূল প্রকল্পের আওতায় এখনো যেসব কাজ বাকী রয়েছে সেগুলো হলো, ৬৪ জেলার উপর আলাদা প্রতিবেদন তৈরি এবং জাতীয় পর্যায়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের কাজ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন কম্পোনেন্টগুলো যোগ হওয়ার কারণেই প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে চতুর্থ অর্থনৈতিক শুমারির মূল তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। ১৫ দিন ধরে চলা তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হয় ২৬ ডিসেম্বর। শুমারির ফলাফলে দেখা যায়, ১০ বছর আগে করা শুমারির তুলনায় দেশে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৯টি বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ১৮ লাখ ৭৭ হাজার ৩৬৪টিতে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে বর্তমানে ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ২১৪টি স্থায়ী, ৫৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১টি অস্থায়ী এবং ৫০ লাখ ১২ হাজার ৫২৯টি পারিবারিক অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ৭০ দশমিক ২৭ শতাংশ ইউনিট গ্রামে এবং ২৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ শহরে অবস্থিত।

    শেয়ার করুন: