আ. লীগ না থাকলেও ভোটার উপস্থিতি থাকবে: বিদেশি সাংবাদিকদের ইসি

সংগৃহীত ছবি
আগামীকালে নির্বাচন ও গণভোটে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ভোটার উপস্থিতি কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তার মতে, আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও তাদের শরিক দল অংশ নিচ্ছে।
আজ বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে। সেখানে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতার ওপর প্রভাব পড়বে কি না জানতে চান একাধিক বিদেশি সাংবাদিক। তাদের এ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেনি ইসি।
ব্রিফিংয়ে বিবিসির একজন সাংবাদিক জানতে চান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। এতে গ্রহণযোগ্যতার ওপর প্রভাব পড়বে কিনা?
জবাবে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ভুলে গেলে চলবে না। দেড় দশক ধরে এই দেশ গণতান্ত্রিক ঘাটতির মধ্যে ছিল। এই সময়ে যারা এখন ত্রিশের কোঠায়, তারা কখনো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। আমরা একটি রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। যারা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারা এখন আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি। তবে এতে ভোটার উপস্থিতি কমবে না—আপনারা আগামীকাল তা দেখবেন।
বিবিসির আরেক সাংবাদিক জানতে চান, তাহলে কি আপনি নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করছেন? জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমি বলছি, এটি একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটের বিষয়। আমাদের জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর ঘটনাগুলো ভুলে গেলে চলবে না।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা ভোটার উপস্থিতি কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে সমান উৎসাহ রয়েছে। কিছুসংখ্যক মানুষ নাও আসতে পারেন। এটি সব সময়ই ঘটে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে অধিকাংশ মানুষই ভোট দেবেন। আর যে দলের কথা বলছেন, তারা একা ছিল না। তাদের অন্য অংশীদাররা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সহিংসতার অভিযোগ আছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা দুর্বল নয় কিনা জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘কেউ কাজ করছে কি না, তা কি সব সময় দৃশ্যমান হয়? আমরা কার্যকরভাবে কাজ করছি। নিরপেক্ষ সরকারের অধীন নির্বাচন সব সময় ভালো হয়। বাংলাদেশ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন সফল নির্বাচন করেছে। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের কারণে সরকারি প্রভাব নেই। সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় এটি অন্যতম সেরা পরিবেশ। বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, তবে আমরা সতর্ক। ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চ সক্ষমতা মোতায়েন করা হয়েছে। ৯ লাখ ৫০ হাজারের বেশি সদস্য মাঠে, প্রথমবার ইউএভি, ড্রোন, বডি ক্যামেরা, সিসিটিভি ব্যবহার হচ্ছে।
এ সময় নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘১৩ ডিসেম্বর থেকে অপারেশন ডেভিল হান্ট শুরু হয়েছে। প্রায় ৯০০ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় রয়েছে। সাধারণ কোনো হুমকি নেই। বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে, আমরা ব্যবস্থা নেব।’ তবে সহিংসতার ঘটনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি তিনি। বিশেষ করে ভোটের আগের রাতে সব রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
নির্বাচনের ফল কবে ঘোষণা হবে জানতে চাইলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, বিকাল সাড়ে ৪টায় ভোট শেষ হবে। এরপরই গণনা। প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে দুই-তিন হাজার ভোট, দুই ধরনের ব্যালট। গণনায় চার থেকে ছয় ঘণ্টা লাগতে পারে। রাত থেকে ভোরের মধ্যে প্রাথমিক ফল আসতে শুরু করবে।
অনুষ্ঠানে সিইসিকে প্রশ্ন করা হয় আগের দুই সিইসি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় তারা এখন কারাগারে। পূর্বসূরীদের পরিণতি তাকে ভাবায় কি না? জবাবে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য আমরা এ পর্যন্ত যা করেছি, আইনকানুনের মধ্যে থেকেই কাজ করছি। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেই কমিটমেন্টকে ফোকাসে রেখেই কাজ করছি। সুতরাং ভয়ের কোনো কারণ নেই।’
ব্রিফিংয়ে আরও বক্তব্য দেন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।

