আগামীর সময়

ভোট ঘিরে গুজব ও তথ্য বিকৃতি চরমে

ভোট ঘিরে গুজব ও তথ্য বিকৃতি চরমে

সংগৃহীত ছবি

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে অনলাইন দুনিয়ায় গুজব এবং তথ্য বিকৃতির প্রবণতা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে খণ্ডিত বক্তব্য, পুরনো ভিডিও, বিকৃত শিরোনাম ও বিভ্রান্তিকর দাবি, যার বড় একটি অংশ সরল বিশ্বাসে লুফে নিচ্ছেন অসচেতন ভোটাররা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ভোটের আগ মুহূর্তে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সহিংসতার মতো গুজবও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। মাঠের রাজনীতির পাশাপাশি ভার্চুয়াল দুনিয়াও বিভক্ত। তীব্র মতবিরোধ, তর্ক-বিতর্ক, আলোচনা-সমালোচনার সঙ্গে চলে ভুয়া তথ্যের ছায়াযুদ্ধ। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই ব্যবহার করে এখন সহজেই বানানো যাচ্ছে নকল ফুটেজ। দেখতে হুবহু কোনো নেতার মতো, কণ্ঠও অবিকল। ফলে সতর্কভাবে যাচাই না করে এর প্রকৃত অবস্থা বোঝার উপায় থাকে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তথ্য-প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অপতথ্যের বিস্তারও বেড়েছে বহুগুণে। সত্যকে আড়াল করে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠা করার এই প্রবণতা দিন দিন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। জন্ম দিচ্ছে অকারণ বিতর্কের, বিভাজনের এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিরপরাধ ব্যক্তিদেরও ঠেলে দিচ্ছে সামাজিক ও রাজনৈতিক হয়রানির মুখে।

বিশ্বব্যাপী তথ্য বিশ্লেষণ বলছে, বর্তমানে পৃথিবীজুড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে খণ্ডিত বক্তব্য, গুজব, জাল ই-মেইল বা নকল মিডিয়া ব্যবহার করে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে, যা নির্বাচনকে দূষিত করছে।

দ্য ডিসেন্ট সম্পাদক কদরুদ্দীন শিশির দীর্ঘদিন ধরে গুজব প্রতিরোধে ফ্যাক্ট চেকিং কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, গুজব প্রতিরোধে ফ্যাক্ট চেকিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে দেশে বর্তমানে কিছু স্বতন্ত্র সংস্থা ফ্যাক্ট চেকিং কার্যক্রম চালালেও মূলধারার গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে সে ধরনের উদ্যোগ খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। অথচ ইউরোপ, আমেরিকা এমনকি পাশের দেশ ভারতেও নির্বাচনকেন্দ্রিক ফ্যাক্ট চেকিং কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হয়।

তিনি বলেন, ভোটের সময় স্বাভাবিকভাবেই মানুষ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকে। আর যেকোনো প্রতিযোগিতায় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা চলে নানাভাবে। গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে দেওয়া এখন সেই প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ভোটের প্রাক্কালে এই প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। এমন পরিস্থিতিতে মানুষ কোনো তথ্য যাচাই না করেই দ্রুত বিশ্বাস করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। কারো প্রতি ক্ষোভ থাকলে, সে বিষয়ে অপতথ্য আরো দ্রুত ছড়ায়।

কদরুদ্দীন শিশির আরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত সক্রিয়তাও এই সমস্যাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ থেকে সাধারণ ভোটারদের পরিত্রাণ পেতে হলে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। কোনো তথ্য বিশ্বাস করার আগে ন্যূনতম পর্যায়ে হলেও যাচাই করা জরুরি। একইভাবে কোনো বক্তব্য বা ভিডিও দেখার ক্ষেত্রে খণ্ডিত অংশের ওপর নির্ভর না করে পুরো বক্তব্যটি দেখার বা জানার চেষ্টা করতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের খণ্ডিত ভিডিও বা অপতথ্য ভোটের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সাধারণ ভোটারদের উচিত, সত্য জানার জন্য বিদ্যমান ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থা বা ফ্যাক্ট চেকারদের সহায়তা নেওয়া।

    শেয়ার করুন: