সার ডিলারের নতুন নীতিমালা বাতিল চেয়ে মানববন্ধন কাল, নেপথ্যে কী

সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা বাতিল করে নীতিমালা-২০০৯ বহাল রাখার দাবিতে আগামীকাল বুধবার সকাল ১০টায় ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সারা দেশের সার ডিলাররা মানববন্ধন করবেন। এ মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ), কেন্দ্রীয় কমিটি।
অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওয়ালিউর রহমান এবং নির্বাহী সচিব রিয়াজ উদ্দিন জানান, বিগত কেয়ারটেকার সরকার সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের মতামত না নিয়ে কোনো একটি মহলকে বিশেষ সুবিধা দিতে তড়িঘড়ি করে সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা-২০০৯ বাতিল করে নীতিমালা-২০২৫ প্রণয়ন করে। যেটা বাস্তবায়ন হলে দেশের কৃষি সেক্টরে বিরাট বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম দেখা দেবে। ফলে নতুন রাজনৈতিক সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, যা কারোই কাম্য নয়।
নীতিমালা-২০২৫ জনস্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে তারা বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর নীতিমালা-২০০৯ বহাল রেখে অংশীদারদের সাথে আলোচনা ও পরামর্শ করে একটি যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের অনুরোধ জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদ ইয়াছিনকে লিখিতভাবে দাবিগুলো জানানো হয়। এছাড়াও আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বেশ কয়েকটি মিটিংয়ে তাকে সার্বিক বিষয়ে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়ও খবর প্রকাশিত হয়, যা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। কিন্তু এ বিষয়ে মন্ত্রী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বিএফএ মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। তখন মন্ত্রী এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা করার আশ্বাস দিলে গত বৃহস্পতিবার বিএফএর নেতৃবৃন্দ মানববন্ধন কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে। পরে রবিবার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে দীর্ঘ সময়ব্যাপী মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শেষে কি আলোচনা হয়েছে কৃষিমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, নীতিমালা সম্পর্কে কিছুই আলোচনা হয়নি। এ বিষয়ে এজেন্ডাও ছিল না। কৃষিমন্ত্রীর এমন দায়িত্বহীন জবাবে উপস্থিত বিএফএ নেতৃবৃন্দ চরমভাবে হতাশ হন। তারই প্রেক্ষিতে সারা দেশের সার ডিলারদের সংগঠন বিএফএ প্রতিটা জেলা ইউনিটের সাথে আলোচনা করে সরকারের কাছ থেকে দেশের ৪৮ হাজার সার ডিলারদের যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামীকাল মানববন্ধন কর্মসূচির আহ্বান। এ মানববন্ধন বাস্তবায়নে ৪৮ হাজার সারের ডিলার ঢাকার প্রেসক্লাবের সামনে উপস্থিত থাকার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।
বিএফএ নেতৃবৃন্দ বলছেন, নীতিমালা-২০০৯ এর মাধ্যমে দেশে সার সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। সার বিতরণে কোনো অনিয়মের অভিযোগ নেই। ১৯৯৫ সালে বিএনপি সরকারের আমলে সার ক্রাইসিসের পর প্রণীত নীতিমালা-২০০৯ যথেষ্ট। এটা বহাল রেখে নীতিমালা জনস্বার্থবিরোধী নীতিমালা-২০২৫ অচিরেই স্থগিত ঘোষণার আহ্বান জানান। প্রয়োজনে সকল অংশীদারদের মতামত নিয়ে বিদ্যমান নীতিমালা আংশিক সংশোধন করে যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের জোর দাবি তাদের।
তারা আরও জানান, নীতিমালা-২০২৫ বাস্তবায়ন হলে ৪৬ হাজার খুচরা ডিলার তাদের বাজারে লক্ষ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ রেখেই বেকার হয়ে যাবে। যার ফলে এই সেক্টরে একটা চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করবে, যা কারোই কাম্য নয়। এ বিষয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দেয়া ও জনস্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য সরকারের নীতি নির্ধারকদের সদয় দৃষ্টি কামনা করেন বিএফএ নেতৃবৃন্দ।

