আগামীর সময়

রাষ্ট্রপতির ভাষণে সরকারের প্রশংসা থাকে কেন?

রাষ্ট্রপতির ভাষণে সরকারের প্রশংসা থাকে কেন?

ফাইল ছবি

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আর কিছুক্ষণ পরেই ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহবুদ্দিন। ধারণা করা হচ্ছে, তার এই ভাষণে নতুন সরকারের প্রশংসা থাকবে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সমর্থনে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরও তিনি এমন বক্তব্য দিতে পারেন, কারণ রাষ্ট্রপতির ভাষণটি পূর্বলিখিত এবং মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত। রাষ্ট্রপতি কেবল সেই ভাষণ পাঠ করে শোনাবেন।

২০০৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নতুন সরকারের প্রশংসা করে ভাষণ দিয়েছিলেন। এর আগে ২০০১ সালেও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদও নতুন সরকারের প্রশংসা করে সংসদে ভাষণ দিয়েছিলেন।

তাদের মধ্যে ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ বিএনপি মনোনীত এবং বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ আওয়ামী লীগ মনোনীত রাষ্ট্রপতি ছিলেন।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় সংসদে ভাষণ দেবেন। তার ভাষণ প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী হতে পারে।

রাষ্ট্রপতির ভাষণটি তার ব্যক্তিমত মতামত নয়, বরং সরকারের নীতির বিবৃতি। সরকারের সাফল্য, উন্নয়ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সমন্বয়ে এ ভাষণ তৈরি করা হয়। তাই এতে সরকারের প্রশংসাই বেশি প্রতিফলিত হয়।

সামরিক শাসক এরশাদবিরোধী সফল আন্দোলনের পর ১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে আবারও ফিরে আসে সংসদীয় গণতন্ত্র। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির অধিকাংশ নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ন্যস্ত করা হয়। সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী হন সরকারের প্রধান এবং সংসদের প্রতি দায়বদ্ধ থাকেন।

পরবর্তী সময়ে নির্বাচনব্যবস্থা ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে সংবিধানে আরও কিছু পরিবর্তন আনা হয়। ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়, যাতে জাতীয় নির্বাচনকে অধিক গ্রহণযোগ্য করা যায়।

তবে ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সেই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করা হয়, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।

এরপর দীর্ঘ দেড় দশক একধরনের নিষ্প্রাণ সংসদ দেখেছে বাংলাদেশ। চব্বিশের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ আবারও একটি প্রাণবন্ত সংসদ দেখার আশা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় গণতন্ত্রের শক্তি নির্ভর করে সংসদের কার্যকারিতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ওপর।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আরেন্ড লিপহার্ট তার ‘কনসেনসাস ডেমোক্রেসি’ তত্ত্বে ব্যাখ্যা করেছেন, ‘গণতন্ত্র কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন নয়; বরং যত বেশি সম্ভব মানুষের শাসন ও তাদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব।’ গত সাত দশকে এই ব্যবস্থার কাঠামোগত রূপ বদলালেও মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

    শেয়ার করুন: