সংশোধিত এডিপি
বরাদ্দ স্থগিত হচ্ছে ৩৬৯ প্রকল্পের
- প্রকল্পগুলো নতুন এডিপিতে যুক্ত করার প্রস্তাব তোলা হবে প্রধানমন্ত্রীর সামনে
- সময়মতো শেষ না হওয়ার পেছনে প্রকল্প পরিচালকদের দায়িত্বে অবহেলা এবং বর্তমানে প্রকল্প অনুমোদনে ধীরগতি দায়ী
- বিষয়টি খতিয়ে দেখে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে- সাবেক পরিকল্পনাসচিব

সংগৃহীত ছবি
সময়মতো মেয়াদ বৃদ্ধি বা সংশোধন না হওয়ায় আগামী ৩০ জুন শেষ হচ্ছে ৩৬৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ। এ কারণে প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ ও অর্থছাড় স্থগিত করা হচ্ছে।
যদিও এমন প্রকল্প আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত ছিল, শেষ পর্যন্ত সে অবস্থান থেকে সরে আসছে পরিকল্পনা কমিশন।
এ বিষয়ে একটি খসড়া প্রস্তাব আগামী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রকল্প পরিচালকদের দায়িত্বে অবহেলা এবং সরকার পরিবর্তনের কারণে প্রকল্প সংশোধনীসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি তৈরি হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে এ পরিস্থিতি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কারণে প্রকল্প সময়মতো শেষ হয় না; বরং বাড়ে মেয়াদ ও ব্যয়। বেরিয়ে আসার বিকল্প নেই এ অবস্থা থেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের এডিপি প্রণয়নের নীতিমালায় বলা হয়েছিল, যেসব প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুনে শেষ হবে, সেগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধি ছাড়া নতুন এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া যাবে না। কিন্তু এ নীতিমালা উপেক্ষা করেই মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ৩৬৯টি প্রকল্প এডিপিতে যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে।
এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে প্রকল্পগুলোকে বিশেষ চিহ্ন (তারকা) দিয়ে এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ভালো নয় অতীত অভিজ্ঞতা। কারণ সময়মতো মেয়াদ বৃদ্ধি না হওয়ায় অর্থবছরের প্রথম চার থেকে পাঁচ মাস বন্ধ থাকে এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম। এতে এডিপির বরাদ্দ ব্যবহার কমে যায় এবং নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সামগ্রিক বাস্তবায়নেও।
পরিকল্পনা কমিশনের খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পগুলো তারকা চিহ্ন দিয়ে এডিপিতে রাখা হলেও মেয়াদ বৃদ্ধি বা সংশোধন ছাড়া সেগুলোতে অর্থছাড় ও ব্যয় স্থগিত রাখা যেতে পারে।
এ প্রসঙ্গে সাবেক পরিকল্পনাসচিব মামুন-আল-রশীদ আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘এ ক্ষেত্রে অবশ্যই দায়িত্বে অবহেলা আছে প্রকল্প পরিচালকদের। আবার অনেক সময় দেখা যায়, মেয়াদ বৃদ্ধি বা সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা শেষ হয়নি। এর পেছনে থাকতে পারে নানা কারণ। যেমন, একটি অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায় এবং নতুন নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের কারণে প্রকল্পগুলো অতিমাত্রায় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি ধীরগতি রয়েছে অনুমোদনের প্রক্রিয়ায়। তবে যাই হোক, প্রকল্পগুলো কেন মেয়াদোত্তীর্ণ হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।’
আগামী জুনে মেয়াদ শেষ হচ্ছে এমন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে জিএনএসএস করসের নেটওয়ার্ক পরিধি সম্প্রসারণ ও টাইডাল স্টেশন আধুনিকীকরণ প্রকল্প। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণে ২০১৯ সাল থেকে এটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর।
এ ছাড়া রয়েছে ফাইভ-জি উপযোগীকরণে বিটিসিএলের অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্প, যা ২০২২ সাল থেকে বাস্তবায়ন করছে বিটিসিএল।
স্মলহোল্ডার অ্যাগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্ট ২০১৮ সাল থেকে বাস্তবায়ন করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এ প্রকল্পের আরও চারটি পৃথক অংশ—বিএআরআই অঙ্গ, ডিএই ও ম্যানেজমেন্ট, বিএডিসি এবং ডিএএম অঙ্গ—আগামী ৩০ জুন মেয়াদ শেষ করছে।
এ ছাড়া তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প ২০২০ সাল থেকে বাস্তবায়ন করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। নোয়াখালীর হাতিয়া ও নিঝুম দ্বীপে পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প ২০১৮ সালে শুরু হয়ে দুই দফা সংশোধনের পরও আগামী ৩০ জুন শেষ হচ্ছে এর মেয়াদ।
মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্প; ফলাফলভিত্তিক পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন পদ্ধতির কার্যকর ব্যবহারে আইএমইডির সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্প; আইসিটির মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার প্রচলন (দ্বিতীয় পর্যায়); সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর উন্নয়ন; সেকেন্ডারি এডুকেশন ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম; নড়াইল বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্টেডিয়াম ও টেবিল টেনিস ভবনের অধিকতর উন্নয়ন এবং ইনডোর স্টেডিয়াম ও ভলিবল স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্প; বিকেএসপির প্রশিক্ষণ সুবিধার আধুনিকায়ন ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ঢাকা সিএমএইচে ক্যানসার সেন্টার নির্মাণ প্রকল্প।



