নতুন সংসদের প্রথম দিনে যা হয়, এবার যা হবে

সংগৃহীত ছবি
নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকেই কিছু নির্ধারিত কাজ থাকে। এর মধ্যে প্রথম কাজই হচ্ছে নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা।
সাধারণত বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার প্রথম বৈঠকের শুরুতে সভাপতিত্ব করে থাকেন। তবে এবার আর সেই ধারাবাহিকতা থাকছে না। চিরাচরিত এই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে।
কারণ দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। অন্যদিকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক (টুকু) বর্তমানে কারাগারে।
এমন প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠকের শুরুতে সভাপতিত্ব কে করবেন, তা নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে কোনো সংসদ সদস্যকে এই দায়িত্ব দেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া রয়েছে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামও।
নিয়ম অনুযায়ী, সভাপতির সূচনা বক্তব্যের পর নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়। এরপর তাদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি। এ সময়টায় অধিবেশনে বিরতি থাকে। এরপর নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে আবার অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম বৈঠকে সাধারণত নতুন স্পিকারকে স্বাগত জানিয়ে সংসদের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা বক্তব্য দিয়ে থাকেন।
সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে এবং বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন। শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর সংসদে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি। এবারও তার ব্যত্য়য় ঘটছে না। নানামুখী আলোচনা ও গুঞ্জনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। এরপর তার ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। অধিবেশনজুড়ে এই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা।
এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো সংসদের প্রথম বৈঠকে উত্থাপন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে। উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ কোনো অধ্যাদেশ অনুমোদন না করলে সেটার কার্যকারিতা থাকবে না।

