‘অনলাইনে মানবকঙ্কাল বিক্রি’ করে গ্রেপ্তার ৪, বিপুল হাড় জব্দ

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর তেজগাঁও ও উত্তরা এলাকা থেকে ৪৭টি মাথার খুলি ও মানবদেহের বিপুল পরিমাণ হাড়সহ কঙ্কাল চোর চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চক্রটি অনলাইনে চড়া দামে এসব মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করে বলে ব্রিফিংয়ে জানিয়েছে তেজগাঁও থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কাজী জহরুল ইসলাম ওরফে সৌমিক, আবুল কালাম, আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদ ও ফয়সাল আহম্মেদ। রোববার রাতে ও সোমবার এ অভিযান চালায় তেজগাঁও থানা পুলিশ।
তাদের মধ্যে সৌমিক উত্তরার সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। ফয়সালও এই কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে মঙ্গলবার দুপুরে এ নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান।
সোমবার দুপুরে তেজগাঁওয়ের মনিপুরীপাড়া এলাকায় চক্রের এক সদস্যের অবস্থানের খবর পেয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে সৌমিককে আটকের পর জব্দ করা হয় একটি মানব কঙ্কাল। তার দেওয়া তথ্যে তেজগাঁও কলেজের সামনে থেকে আটক করা হয় আবুল কালাম ও আসাদুল মুন্সীকে। তাদের কাছে পাওয়া যায় দুটি কঙ্কাল।
তাদের দেওয়া তথ্যে ফের উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে আটক করা হয় ‘চক্রের হোতা’ ফয়সালকে। জব্দ করা হয় ৪৪টি খুলিসহ মানব কঙ্কাল।
‘তাদের অনলাইনে হোলসেলিং গ্রুপ আছে। এই গ্রুপে ৭০০ জন কর্মী কাজ করেন, আর গ্রুপ মেম্বার রয়েছে ২০ হাজারের মতো... তারা গত কয়েকবছর ধরে কঙ্কাল উত্তোলনের পর প্রসেস করে বিক্রি করার কাজে যুক্ত। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত কেউ ৫০টি, কেউ ২০-২৫টি কঙ্কাল বিক্রির কথা স্বীকার করেছে’- জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পান উপকমিশনার মিজান।
আবুল কালামের নামে অন্তত ২১টি মামলা থাকার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে আছে ২০০৯ সালে কবর থেকে কঙ্কাল চুরির মামলাও। আর গ্রেপ্তার এরশাদের নামে আছে দুটি মামলা।
‘তারা কঙ্কালগুলো মাঠপর্যায় থেকে ৫-৭ হাজার টাকায় কেনে। পরে সেল করে ১৫-২০ হাজার, যার কাছে যেমন পায়। তারা যে বিক্রি করে, এটা অনেকেই জানে... তাদের ক্রেতাদের বেশিরভাগই মেডিকেল শিক্ষার্থী। তবে এর বাইরে অন্যান্য চক্রও আছে, যারা কমদামে কেনে বেশিদামে বিক্রি করে’- চক্রের কর্মপদ্ধতি ব্যাখ্যা করেন উপকমিশনার।
‘যারা কবর থেকে হাড়গুলো ওঠাচ্ছে, প্রসেস করছে, আবার তাদের কাছ থেকে নিয়ে সুন্দর করে মেলাচ্ছে। এই প্রসেসের সাথে চারজনই ইনভলব। ফাইনালি বিক্রি করে স্টুডেন্টের কাছে’- যোগ করেন তিনি।
জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে গাজীপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও জামালপুর থেকে কঙ্কাল সংগ্রহের কথা পুলিশকে জানিয়েছে গ্রেপ্তার আসামিরা।
‘লাশের কবর হওয়ার সাধারণত এক বছর পর সেগুলো তোলেন তারা। প্রথমে তারা অবজার্ভ করেন। তবে যে কবরস্থাগুলো বেশি সুরক্ষিত, ওখানে কিন্তু এ কাজগুলো করতে পারেন না... যেখানে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কবর থাকে, অরক্ষিত অবস্থায় থাকে, পাহাড়াদার থাকে না, লাইটিং বা সিসি ক্যামেরা থাকে না এবং লোকজনের যাতায়াত কম, সেসব কবর থেকে তারা কঙ্কালগুলো উত্তোলন করে। সংগ্রহ করার পর সেটা কেমিক্যালের মাধ্যমে প্রসেস করে সেল করা হয়’- বলছিলেন উপকমিশনার মিজান।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ পেলে ডিএনএ প্রোফাইলিং করে কঙ্কালগুলো ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

