দ্রুতই স্বাভাবিক হবে ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া: সহকারী হাই কমিশনার

সংগৃহীত ছবি
চব্বিশের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে শুরু হয় টানাপোড়েন। অন্তবর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামলজুড়ে বাংলাদেশে ভিসা কার্যক্রম সীমিত করে দেশটি।
তবে নির্বাচনে বিএনপির জয়ে ভারতের পক্ষ থেকে মিলতে থাকে সম্পর্কোন্নয়নের নানা ইঙ্গিত। এর ধারাবাহিকতায় এবার ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করার কথা জানালেন বাংলাদেশে দেশটির সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস।
সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবে বুধবার বিকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, সব ধরনের ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরাতে এরইমধ্যে নেয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ।
তিনি বলেন, ‛বর্তমানে মেডিকেল ও ডাবল এন্ট্রি ভিসা দেয়া হচ্ছে। ভ্রমণসহ অন্যান্য ক্যাটাগরির ভিসা চালু করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে অনিরুদ্ধ বলেন, ‛দুই দেশের চিন্তা-চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংযোগ রয়েছে। আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জনগণের ওপর ভিত্তি করেই আরও শক্তিশালী হবে... দুই দেশের জনগণই হবে একটি স্থিতিশীল, ইতিবাচক, গঠনমূলক ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের মূল অংশীদার।’
সভায় ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক নৈকট্য, বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষাকে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন সুযোগে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নে সাংবাদিকদের ভূমিকা প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। অনিরুদ্ধ বলেন,‛বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও গঠনমূলক সমালোচনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সহায়ক হতে পারে।‛
দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে ভিসা দেয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাসও দেন সিলেটস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনের এই কর্মকর্তা।
সভায় সাংবাদিকরা কাছে সিলেটের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা-সংস্কৃতি বিনিময় এবং কানেক্টিভিটি বৃদ্ধির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন তিনি। ভারত সরকারের ‘এইড টু বাংলাদেশ’ ও ‘এলওসি’ প্রকল্পের আওতায় সিলেট অঞ্চলে আর্থসামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণের আহ্বানও জানান।
২০২৪ এর অভ্যুত্থানের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের আশ্রয় দেয়ার জেরে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকে। দেশজুড়ে গত দেড় বছরে নানা বিক্ষোভ-আন্দোলনে বার বার উচ্চারিত হয় ভারতবিরোধী স্লোগান। বিভিন্ন সময় কঠোর জবাবও আসে দিল্লি থেকে।
তবে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর সুর পাল্টেছে ভারত। ভোটে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উষ্ণ বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
টুইটবার্তায় তিনি তারেকের উদ্দেশে বলেন, ‛এ বিজয় আপনার নেতৃত্বের ওপর বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন। গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে ভারত পাশে থাকবে।’
জবাবে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‛আমরাও আমাদের দলের পক্ষ থেকে তাকে (নরেন্দ্র মোদি) ধন্যবাদ জানাই। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুই দেশের সম্পর্ক এবং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে।’
এরপর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কোনো ‘একক বিষয়ে’ আটকে থাকবে না। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বাধা হবে না ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান।
দুদিন আগে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষ থেকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।

