আগামীর সময়

৩৭ হাজার পরিবার পাচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, কাল উদ্বোধন

  • কর্মসূচি ঘিরে দুর্নীতির সুযোগ নেই: অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী
  • কোথাও অসঙ্গতি দেখলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
৩৭ হাজার পরিবার পাচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, কাল উদ্বোধন

ফাইল ছবি

দেশের হতদরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষের ভাগ্যবদল এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে দেশের ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবার পেতে যাচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’।

আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) এই জনকল্যাণমুখী কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ঘিরে অতীতে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণে তার কোনো সুযোগ নেই বলে জানালেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

‘এটি একটি সম্পূর্ণ সার্বজনীন কর্মসূচি। এখানে কোনো প্রকার রাজনৈতিক বিবেচনা বা দলীয়করণ করা হয়নি। প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচনে শতভাগ স্বচ্ছতা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে’, যোগ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

প্রকল্পের অনিয়মরোধে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘সাধারণত নগদ অর্থ বিতরণে যে ধরনের অনিয়ম হয়, তা রোধে এই প্রকল্পে জি-টু-পি পদ্ধতিতে সরাসরি উপকারভোগীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে।’

নগদ টাকার সঙ্গে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য দেওয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। ‘পাইলটিং পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিটি পরিবার মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে নগদ ভাতা পাবেন। পরবর্তীতে ভাতার পাশাপাশি সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তাও প্রদান করা হবে’, মন্তব্য করেন তিনি।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী মন্ত্রী জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে সারা দেশ থেকে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে যাচাই শেষে ডাবল ডিপিং (একাধিক ভাতা গ্রহণ), সরকারি চাকরি ও পেনশনভোগীদের বাদ দিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কার্ড পাওয়ার শর্ত
একটি কার্ডের সুবিধা পাবে ৫ সদস্যের একটি পরিবার। তবে সদস্য সংখ্যা ৫-এর বেশি হলে আনুপাতিক হারে কার্ডের সংখ্যা বাড়বে। তবে কিছু ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তা হলো পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বেতন/পেনশনভোগী হলে তারা এই সুবিধা পাবেন না; এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারী পরিবার এই ভাতার আওতাভুক্ত হবে না; বাণিজ্যিক লাইসেন্স, বড় ব্যবসা, বিলাসবহুল সম্পদ (গাড়ি, এসি) বা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলে সেই পরিবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

বাস্তবায়ন ব্যয় ও লক্ষ্য
পাইলটিং পর্যায়ে ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি কর্পোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। আগামী জুন পর্যন্ত এই কর্মসূচিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮.০৭ কোটি টাকা। যার মধ্যে সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে যাবে ২৫.১৫ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নজনিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১২.৯২ কোটি টাকা।

‘আমরা একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে প্রতিটি নারী প্রধান পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে’, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মাথায় রেখেই সরকার এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    শেয়ার করুন: