দুর্নীতির সূচকে এক ধাপ পেছাল বাংলাদেশ

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় এক ধাপ অবনতি হয়ে ১৩তম হয়েছে বাংলাদেশ। আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই অবস্থান ছিল ১৪তম। ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের তথ্যের ভিত্তিতে সূচকটি তৈরি করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বার্লিনভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল প্রকাশিত ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০২৫’-এর বৈশ্বিক প্রতিবেদন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, জুলাই আন্দোলনের পর দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের স্কোর মাত্র ১ পয়েন্ট বেড়ে ২৪-এ দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ২৩।
সূচকে ১৮২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০তম। আফগানিস্তানের পরই বাংলাদেশের অবস্থান, যা এ অঞ্চলে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।
টিআইবি জানায়, দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় এক ধাপ অবনতি হয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৩তম। দেশের দুর্নীতি পরিস্থিতিতে কোনো মৌলিক বা বাস্তব পরিবর্তন আসেনি; বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দুর্নীতি দমন ও সুশাসনের পথে যে অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান স্কোর তার তাৎক্ষণিক ও সীমিত প্রতিফলন মাত্র।
অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর সমালোচনা করে টিআইবি আরো বলেছে, সরকার স্বচ্ছতার চর্চা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দুটি প্রধান দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও দুর্নীতি দমন। কিন্তু এ দুই ক্ষেত্রেই সরকার প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি। এতে বাংলাদেশ একটি বড় সুযোগ হারানোর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
এ সময় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ থেকে মুক্ত রাখার আহ্বান জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনি প্রচারে যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হলে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনবিরোধী অবস্থান নিয়ে সহিংসতার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং এখনো অতীতের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চায়নি।

