আগামীর সময়

যাত্রী কল্যাণ সমিতি

ঈদযাত্রায় ৩৭৭ দুর্ঘটনায় ৩৯৪ মৃত্যু

ঈদযাত্রায় ৩৭৭ দুর্ঘটনায় ৩৯৪ মৃত্যু

ছবিঃ আগামীর সময়

ঈদযাত্রাকে ঘিরে গত ১৫ দিনে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৭৭টি। এসব দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত হয়েছেন, আর আহত ১ হাজার ২৮৮ জন। এর মধ্যে শুধু সড়কেই ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৩৫১ জন। 

আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর পর্যালোচনা করে তৈরি করা হয়েছে এই প্রতিবেদন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, চলমান ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে গত ১৫ দিনে যত মানুষ হতাহত হয়েছে, তার চেয়ে একই সময়ে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের তথ্য উপস্থাপন করেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে যাত্রা শুরুর দিন ১৪ মার্চ থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার দিন ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫ দিনে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত ও ১ হাজার ৪৬ জন আহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরে ৩১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত ও ৮২৬ জন আহত হন। বিগত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা ৮ দমশিক ৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ ও আহত বেড়েছে ২১ শতাংশ।

একই সময়ে রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও আহত হয়েছেন ২২৩ জন। নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত ও ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। একই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৭৮ জন।

এবারও সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে মোটরসাইকেল। এবারের ঈদে ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন নিহত, ১১৪ জন আহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ১২ শতাংশ, নিহতের ৩৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং আহতের প্রায় ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য, দুর্ঘটনার শিকার মোট যানবাহনের ২৭ দশমিক ১৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান, ১৬ দশমিক ২২ শতাংশ বাস, ১৫ দশমিক ২৮ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ প্রাইভেট কার-মাইক্রোবাস, ৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ নছিমন-করিমন ও ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৪৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২২ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়।

    শেয়ার করুন: