আগামীর সময়

নতুন মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে কীভাবে চীন ও বাংলাদেশের তুলনায় সুবিধা পেল ভারত

নতুন মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে কীভাবে চীন ও বাংলাদেশের তুলনায় সুবিধা পেল ভারত

সংগৃহীত ছবি

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক বর্তমান ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনবে। এর বিনিময়ে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে এবং বাণিজ্য বাধা কমাবে—এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনালাপের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই চুক্তির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্র এবং সম্ভাব্যভাবে ভেনেজুয়েলা থেকেও তেল কিনবে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘মেইড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যের ওপর শুল্ক কমে ১৮ শতাংশ হওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমার প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে দারুণ লাগলো। মেইড ইন ইন্ডিয়া পণ্যের ওপর শুল্ক কমে ১৮ শতাংশ হওয়ায় আমি আনন্দিত। এই চমৎকার ঘোষণার জন্য ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ।

তিনি আরও বলেন, যখন দুটি বড় অর্থনীতি এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ একসঙ্গে কাজ করে, তখন তা জনগণের উপকারে আসে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিপুল সুযোগ সৃষ্টি করে।

অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির তুলনা

নতুন এই চুক্তির ফলে, চীন, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামসহ এশিয়ার অন্যান্য বড় অর্থনীতির তুলনায় ভারত এখন ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে তুলনামূলকভাবে কম শুল্কের সুবিধা পাচ্ছে।

তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর পাশাপাশি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায় ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক এখনও সামান্য বেশি।

যেসব দেশের ওপর বেশি শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশের ওপর সবচেয়ে বেশি শুল্ক আরোপ করেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— ব্রাজিল। দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের পরিমাণ ৫০ শতাংশ। এ ছাড়া মিয়ানমার ও লাওসের ওপর ওপর মার্কিন শুল্কের পরিমাণ ৪০ শতাংশ, চীনের ওপর ৩৭ শতাংশ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর ৩০ শতাংশ

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যেসব দেশ তুলনামূলক বেশি শুল্কের মুখে পড়েছে তার মধ্যে— ভিয়েতনাম ২০ শতাংশ, বাংলাদেশ ২০ শতাংশ, পাকিস্তান ১৯ শতাংশ, মালয়েশিয়া ১৯ শতাংশ, কম্বোডিয়া ১৯ শতাংশ ও থাইল্যান্ড ১৯ শতাংশ।

যেসব দেশের ওপর কম শুল্ক আরোপ করা হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেসব দেশের শুল্ক সবচেয়ে কম— যুক্তরাজ্য ১০ শতাংশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১৫ শতাংশ, সুইজারল্যান্ড ১৫ শতাংশ, জাপান ১৫ শতাংশ ও দক্ষিণ কোরিয়া ১৫ শতাংশ।

ভারত–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির শর্ত সম্পর্কে যা জানা গেছে

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের সব আমদানির ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই শুল্কটি আগের ২৫ শতাংশ ‘পারস্পরিক’ শুল্কের ওপর যোগ হয়েছিল।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতকে অনেক বেশি মাত্রায় আমেরিকান পণ্য কিনতে সম্মত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন জ্বালানি (কয়লাসহ), প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্য।

ভারত সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিজেদের শুল্ক ও অশুল্ক বাধা শূন্যে নামিয়ে আনবে।

গত বছর ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার আগে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হার দ্বিগুণ অঙ্কে তোলার আগে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) তথ্য অনুযায়ী, ভারতের শুল্ক হার ছিল বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ—গড় প্রযোজ্য হার ১৫.৬ শতাংশ এবং কার্যকর হার ৮.২ শতাংশ।

যেসব বিষয় এখনও স্পষ্ট নয়

ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অনুপস্থিত ছিল। যেমন—কম শুল্ক কার্যকর হওয়ার তারিখ, ভারত কবে রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে, বাণিজ্য বাধা কতটা কমানো হবে, যুক্তরাষ্ট্রের কোন কোন পণ্য ভারত কিনতে রাজি হয়েছে।

সোমবার বিকেল পর্যন্ত হোয়াইট হাউস থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রেসিডেন্সিয়াল ঘোষণা বা ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশ প্রকাশ করা হয়নি, যা ছাড়া এই পরিবর্তন কার্যকর হয় না।

এছাড়া ভারত বা যুক্তরাষ্ট্র—কেউই এখনো চুক্তির বিস্তারিত শর্ত বা কার্যকর হওয়ার সময়সূচি প্রকাশ করেনি। ভারত রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করবে—এ বিষয়ে রাশিয়াও কোনো বক্তব্য দেয়নি।

এর আগে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তিতে শত শত বিলিয়ন ডলার মার্কিন শিল্পখাতে বিনিয়োগের অঙ্গীকার ছিল। কিন্তু ভারতের সঙ্গে করা এই ঘোষণায় কোনো নির্দিষ্ট বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

    শেয়ার করুন: