আগামীর সময়

সচিবালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে ফিরল একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক

সচিবালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে ফিরল একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক

সংগৃহীত ছবি

পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সচিবালয়ে একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক (সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক) নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সচিবালয়ে প্রবেশের সময় প্লাস্টিকজাত কোনো সামগ্রী বহনে থাকবে কড়াকড়ি, বিকল্প হিসেবে দেওয়া হবে কাগজ বা কাপড়ের ব্যাগ। রোববার (৫ অক্টোবর) থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ঘোষণা আসে।


আবারও সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আবার দেখা যাচ্ছে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের পানির বোতল। মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে শুরু করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বৈঠকে ও ইফতার আয়োজনে ব্যবহার করা হচ্ছে প্লাস্টিকের বোতলজাত পানি। অথচ কয়েক মাস আগেও একই জায়গায় ছিল কঠোর নিষেধাজ্ঞা।


সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক নিয়ে প্রবেশে তল্লাশি, বিকল্প ব্যাগ সরবরাহ, সভা-সেমিনার ছিল প্লাস্টিকমুক্ত। এখন সেই অবস্থান শিথিল হওয়ায় সরকারে পরিবেশ অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সচিবালয়ের ভেতরে পলিথিন ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়। প্রবেশমুখে তল্লাশির মাধ্যমে প্লাস্টিক বোতল নিয়ন্ত্রণ করা হতো। প্রয়োজন হলে কাগজের ব্যাগ সরবরাহ করা হতো।

পরিবেশবিদদের মতে, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বললেন, সরকারি দপ্তর যদি নিজেই প্লাস্টিকমুক্ত থাকতে না পারে, তাহলে সাধারণ মানুষকে নিরুৎসাহিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। নীতির শুরুটা হতে হয় রাষ্ট্রের ভেতর থেকেই।

সাম্প্রতিক সময়ে সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্লাস্টিক বোতলের ব্যবহার বাড়তে দেখা গেছে। পরিবেশবিদদের অভিযোগ, প্রশাসনিক শিথিলতা ও করপোরেট প্রভাবের কারণে আগের কঠোরতা আর বজায় নেই। বোতলজাত পানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আবারও সরবরাহের পথ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ উঠছে।


বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বললেন, আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি অফিস-আদালতে প্লাস্টিক ব্যবহার না করার নীতি নেওয়া হয়েছিল। তখন সভাগুলোতে কাঁচের বোতল ও গ্লাস ব্যবহার দেখা গেছে। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর আবার প্লাস্টিক বোতল ব্যবহার শুরু হওয়া হতাশাজনক। অবিলম্বে আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে হবে। সচিবালয় যদি প্লাস্টিকমুক্ত থাকে, সেটি সারা দেশে পালন হবে।


স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেছেন, প্রায় ২২ বছর ধরে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও দেশে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক বন্ধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।


অধ্যাপক কামরুজ্জমান মতে, কেবল নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প সুলভে সহজলভ্য করতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে তারা স্বেচ্ছায় এই পণ্যের ব্যবহার থেকে বিরত থাকে।


তাঁর মতে, নীতিগত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বাজারব্যবস্থা ও সামাজিক আচরণে পরিবর্তন আনতে পারলেই টেকসই সমাধান সম্ভব।


সূত্র : সমকাল

    শেয়ার করুন: