জাতীয় পার্টির বক্তব্য সঠিকভাবে প্রচার করা হচ্ছে না: জি এম কাদের

জি এম কাদের
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ভোট অবাধ ও নিরপেক্ষ হওয়ার সুযোগ নেই। আজ বুধবার রংপুর নগরীর সেনপাড়ায় নিজ বাসভবনে একটি টিভিতে দেওয়া তিনি এ কথা বলেন।
জি এম কাদের বলেন, এই নির্বাচন মূলত একটি দলীয় সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে এনসিপিকে সরকারি দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তাদের জোট গঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত কোনো নির্বাচনই দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। নির্বাচন ব্যবস্থার অনিয়ম, কারচুপি ও পক্ষপাতের কারণেই একসময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাসীনদের সরাসরি ও পরোক্ষ প্রভাব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার আচরণে নিরপেক্ষতার অভাব রয়েছে। এর ফলে নির্বাচন নিয়ে জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
‘জাতীয় পার্টির বক্তব্য ও কার্যক্রম সঠিকভাবে প্রচার করা হচ্ছে না’ জানিয়ে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কিছু দল ও জোটকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে প্রশাসনিক প্রোটোকলের অপব্যবহার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষপাতমূলক ভূমিকার কারণে জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নীলফামারী, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের ওপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা আহত হয়েছেন, ভাঙচুর করা হয়েছে নির্বাচনী কার্যালয়। জাতীয় পার্টির একাধিক প্রার্থী এখনো কারাবন্দী রয়েছেন, যা নির্বাচনের পরিবেশকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
তবে এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও জাতীয় পার্টি নির্বাচনে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান জি এম কাদের। তিনি বলেন, আমরা জানি পরিবেশ আমাদের জন্য অনুকূল নয়। তবুও জনগণের সামনে অনিয়ম, বৈষম্য ও অন্যায়ের চিত্র তুলে ধরতেই আমরা নির্বাচনে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করছি, জনগণ সত্য উপলব্ধি করবে এবং ভোটের মাধ্যমে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে।

