আগামীর সময়

এমপি হলে বিনামূল্যে ওয়াজের ঘোষণা তাহেরীর

এমপি হলে বিনামূল্যে ওয়াজের ঘোষণা তাহেরীর

সংগৃহীত ছবি

আজরাঈল আসিয়া যখন হস্তে দিবা দড়ি,
তখন আমার মনা ভাই খরবা লুকালুকি।
আমি জানিলাম না গো,
আমার মরণের কত দিন বাকি?

এই গজলের সুরে একযোগে কণ্ঠ মেলান উপস্থিত কয়েকশ’ মানুষ। তবে গজল শেষে মুহূর্তেই পরিবেশ বদলে যায়। শান্ত, ভারী ও আকুতিভরা কণ্ঠে বক্তা বলে ওঠেন, ‘ভাইজান, বাজান—ভোটটা দিয়েনও।আলোচিত ইসলামি বক্তা মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরী এমন ব্যতিক্রমী ভোট চাওয়া দৃশ্য ঘিরে সৃষ্টি হয় অন্যরকম আবহ ।

সম্প্রতি হবিগঞ্জ-৪ আসনে ইসলামিক ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ও আলোচিত ইসলামি বক্তা মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরীকে মাধবপুর উপজেলার শাহপুর বাজারে এভাবেই প্রচারণা চালাতে দেখা যায়।

ততক্ষণে ভোটারদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। কথাগুলো বলার সময় তাহেরীর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন তার এক কর্মী।

প্রচারণার শেষ পর্যায়ে মাইক হাতে নিয়ে তিনি আবারও বলেন, এমপি অইলে মাধবপুরে ফ্রি ওয়াজ। এই প্রচারণার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ সময় গিয়াস উদ্দিন তাহেরী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে তার এজেন্টদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি দোয়া চেয়ে আরও ১১টি পথসভা করার কথা জানিয়ে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এর আগেও এই বক্তা বেশ আলোচনায় এসেছিলো তার ভাইরাল কিছু বক্তব্যের কারণে তার মধ্যে ছিলো

‘চিল্লাইয়া মার্কেট ফাউন যাইব?’

ওয়াজ মাহফিলেই তাহেরী বলেন, ‘তাহেরীর মুখ দিয়া যেইডা বাইর হয় হেইডই মার্কেট ফায়। চিল্লাইয়া মার্কেট ফাউন যাইব?’

‘আমি কি কাউকে গালি দিয়েছি?’‘বুঝলে বুঝপাতা না বুঝলে তেজপাতা’‘শরীলে একটা ভাব আইসে না?’কষ্ট হইতেছে আপনার? মোটামুটি শরীলে একটা ভাব আইসে না?’আমার মন জানে আমি আসলে কী চাই

দর্শক-শ্রোতারা নিজেদের আসনে বসেই চিৎকার করে তাহেরীর প্রশংসা করে। তখন তাহেরী বলেন, ‘ফাম দিস না, ফাম দিস না।’ তিনি বলেন, ‘যা তোরা যত গালি দেস আমার অসুবিধা নাই। আমার মন জানে আমি আসলে কী চাই।’

চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-৪ আসনে ৫ লাখ ৪৫ হাজার ২৭২ জন ভোটার রয়েছেন। ৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও মূল আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এসএম ফয়সল ও ইসলামিক ফ্রন্টের মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরী।

অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদের, বাসদের মো. মুজিবুর রহমান,

ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. রেজাউল মোস্তফা, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. রাশেদুল ইসলাম খোকন, মুসলিম লীগের শাহ মো. আল আমিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী ও এসএ সাজন।

    শেয়ার করুন: