তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা নিয়ে জোর আলোচনা, কারা আসছেন সামনে

ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে বিএনপি। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সরকার গঠন করা হবে।
কেমন হবে নতুন মন্ত্রিসভা, কারা থাকবেন, কে কোন দপ্তর পাবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সচিবালয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চায়ের আড্ডা, সব জায়গাতেই চলছে জোর আলোচনা।
দলীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন। ২০০১ সালে তিনি কৃষি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এবার তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে দেখা যেতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস আবারও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে গুঞ্জন আছে। একই কমিটির গয়েশ্বর চন্দ্র রায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে যেতে পারেন। অতীতে তিনি এ দপ্তরে কাজ করেছেন।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন ড. আব্দুল মঈন খান। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে পররাষ্ট্র অথবা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেখা যেতে পারে। ২০০১ সালে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী থাকা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবার পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী হতে পারেন বলে আলোচনা আছে।
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ আইন অথবা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। আইন মন্ত্রণালয়ের জন্য আরও যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে আছেন অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পেতে পারেন ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে থাকতে পারেন সিরাজগঞ্জ থেকে নির্বাচিত ড. এম এ মুহিত। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ড. রেজা কিবরিয়া।
চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক নোয়াখালী-২ আসন থেকে আবারও নির্বাচিত হয়েছেন। তাকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ে দেখা যেতে পারে।
সাবেক বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস শ্রম মন্ত্রণালয়ে যেতে পারেন। প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন খন্দকার আবু আশফাক। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন এহসানুল হক মিলন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার নামও আছে আলোচনায়।
মহিলা নেত্রীদের মধ্যেও আলোচনা চলছে। শামা ওবায়েদ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন। অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল যেতে পারেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে।
এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল এবং ব্যারিস্টার মীর হেলালকে।
দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী নির্বাচনে অংশ নেননি। তবে তাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী করা হতে পারে বলে আলোচনা আছে। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে থাকতে পারেন অধ্যাপক মওদুদ আলমগীর পাভেল। একইভাবে কৃষি মন্ত্রণালয়ে টেকনোক্র্যাট কোটায় যেতে পারেন শামসুজ্জামান দুদু।
শরিকদের মধ্য থেকেও কয়েকজনের নাম ঘুরছে আলোচনায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন আন্দালিব রহমান পার্থ, ববি হাজ্জাজ, নুরুল হক নূর এবং জোনায়েদ সাকি।
সব মিলিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত জল্পনা থামছে না। এখন নজর, শেষ পর্যন্ত কারা জায়গা পান নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায়।

