বিএনপির ইশতেহার ‘কল্যাণমুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’, ৯ বিষয়ে অগ্রাধিকার

সংগৃহীত ছবি
আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলে ‘কল্যাণমুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। নির্বাচনী ইশতেহারে ৯টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে ৫১ দফার কথা বলছে দলটি। রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে শুরু করে ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনাসহ সমাজ, সংস্কৃতি ও অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন প্রাধান্য পেয়েছে ইশতেহারে।
বিএনপি বলছে, এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। বিএনপি প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে তারা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে। সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান হবে। আইনের উর্ধ্বে কেউ থাকবে না। প্রতিটি নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবে, সবার আগে বাংলাদেশ।
আজ শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর সরকার গঠনের সুযোগ পেলে বিএনপি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কী কী করবে, সেই ফর্দ জাতির সামনে তুলে ধরেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটির পরিচালনা রয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভী। স্বাগত বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। সেই হিসেবে এটিই তার প্রথম নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা। এর আগে পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম সংসদ নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেন তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সে সময় তিনিই প্রতিটি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।
২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অংশ নিলেও সেই সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি ছিলেন। ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর গুলশানের লেকশোর হোটেলে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার অধীনে দশম ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি।
৯ অগ্রাধিকার
১. প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থসেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।
২. কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বীমা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষিখাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই সুবিধা পাবেন।
৩. দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাসহ রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
৪. আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা ও ‘মিড-ডে মিল’ চালু করা হবে।
৫. তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণসহ মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
৬. ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠায়ো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।
৭. পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে দেশপ্রেমী জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যামে ১০ হাজার কিলোমিটার নদী-খালখনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ১৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।
৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে এবং
৯. ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিষ্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন, ও ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করা হবে।

