আগামীর সময়

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে চীন কখনো হস্তক্ষেপ করেনি : জামায়াত আমির

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে চীন কখনো হস্তক্ষেপ করেনি : জামায়াত আমির

ছবি ভিডিও থেকে নেওয়া।

চীন কখনো স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেনি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘চীন অবিরত বন্ধুর পরিচয় দিয়েই চলেছে।’

আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় মিরপুর-১০ নম্বরে আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুস্থদের মধ্যে ফুডপ্যাক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াত আমির বলেছেন, ‘অনেকে বাংলাদেশকে কিছু না দিয়েই, বাংলাদেশ থেকে সব কিছু নিয়েই, বাংলাদেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন। কিন্তু চীন তা করে না। আমরা আশা করি, অতীতের চেয়েও আগামী দিনগুলোতে আমাদের প্রিয় বন্ধুরাষ্ট্র চীন আরো বেশি উদ্যোগী হয়ে বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করবে।’

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সুদীর্ঘ ৫০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেছেন, ১৯৭৬ সালে চীন বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় এবং তখন থেকে শুরু করে চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আন্তরিক উন্নয়ন অংশীদার। চীনের অংশীদারত্বে বাংলাদেশে অনেক বড় বড় নিদর্শন গড়ে উঠেছে।’

পতিত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে আমাদের (বাংলাদেশ ও চীন) এই বন্ধুত্বের নিদর্শনটা হাইজ্যাক হয়ে গিয়েছিল।’ চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের নাম পরিবর্তনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘একটা দেশ ভালোবাসার জায়গা থেকে আমাদের উপহার দিয়েছে, আর তাদের নাম-নিশানাই মিটিয়ে দেওয়া হলো!’

তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশের কান্না-উত্তরাঞ্চলের কান্না উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, ‘আমরা এই কান্নার অবসান চাই। অতীতে এটা (তিস্তা প্রকল্প) কেন বাস্তবায়ন হয় নাই, এটা সবাই বোঝে। শিশুও বোঝে। আমরা ওই লিগ্যাসি আর বহন করতে চাই না। আমরা এই অপসংস্কৃতি থেকে বের হয়ে জানিয়ে দিতে চাই, আমরাও স্বাধীন দেশের নাগরিক, আমাদের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি আছে। আমরা এই প্রকল্পকে শুধু সাপোর্ট করব না, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে যদি আমাদের কিছু করার থাকে সেটাও করব। কারণ আমরা দেশের কল্যাণ চাই, মানুষের কল্যাণ চাই।’

বাংলাদেশের বিশেষায়িত হাসপাতাল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য হল নির্মাণে চীনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান জামায়াত আমির। ‘এগুলোই তো বন্ধুত্বের নিদর্শন। তারা কথায় চিড়া ভিজাতে চান না। তারা দুধ দিয়ে চিড়া ভিজিয়ে দেখিয়েছেন, চিড়া এইভাবে ভিজাতে হয়। আমরা আশা করব, আমাদের অন্যান্য বন্ধু রাষ্ট্র এভাবে এগিয়ে আসবে এবং যার যার কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করবে কে আমাদের সত্যিকারের বন্ধু’- যোগ করেন তিনি।


    শেয়ার করুন: