আ. লীগের কার্যালয় খোলা নিয়ে কী বলছে জামায়াত?

সংগৃহীত ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ ঘটনায় ‘জনগণের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে’ দাবি করে উদ্বেগ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মঙ্গলবার এ নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।
‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ দল। তাদের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কোনো কার্যক্রম পরিচালনার বৈধ এখতিয়ার নেই। সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আরো কতিপয় নেতা প্রকাশ্যে বলেছে, বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মামলা থেকে মুক্তি, নিরাপত্তা ও বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে’, বিবৃতিতে বলেন তিনি।
‘তাদের এই ধরনের বক্তব্যের সুযোগ নিয়ে নিষিদ্ধ দলটি আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষত শাসক দলের ‘ছাড় দেওয়ার মানসিকতা’ তাদের প্রত্যাশাকে উসকে দিচ্ছে। আমি সরকারের ‘ছাড় দেওয়ার মানসিকতায়’ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি,’ বলেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আওয়ামী লীগ দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাদের দলীয় অফিস খুলে জয় বাংলা স্লোগান দিচ্ছে এবং ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে। ফলে জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এবং উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। দেশে আবারও অতীতের জুলুম-নির্যাতনের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা সৃষ্টি হচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকার ও প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ করা যাচ্ছে না।’
‘আমরা সরকারের নিকট দেশবাসীর সামনে সরকারের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। দেশের শান্তি, আইন-শৃঙ্খলা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় অবিলম্বে দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে’, যোগ করেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল।
তার ভাষ্য, ‘পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে কোনো ধরনের সুযোগ দেওয়া জাতির জন্য আত্মঘাতী ছাড়া আর কিছু নয়। দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষা করা সরকারের অঙ্গীকার এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব।’ এ বিষয়ে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে সতর্ক, সজাগ ও সচেতন থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

