আগামীর সময়

এমন বাংলাদেশ দেখলে আমার ভাই হয়তো মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতেন না

এমন বাংলাদেশ দেখলে আমার ভাই হয়তো মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতেন না

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এখানে রনাঙ্গণের বীর মুক্তিযোদ্ধারা অথবা তাদের সন্তানেরা আছেন। আমিও এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। আমার যে ভাই জীবন দিয়েছেন, আমি বিশ্বাস করি এমন বাংলাদেশের চিত্র দেখলে তিনি হয়তো সেদিন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন না।

আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় হবিগঞ্জ নিউ ফিল্ড মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কাজী মুখলিছুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি হবিগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী কাজী মহসিন আহমদের সঞ্চালনায় সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান জেলার ৪টি আসনে জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, কেউ একেবারে ভালো কিছু করেননি- এ কথা আমি বলছি না। কিন্তু এ দেশ সবুজ ছায়ায় ঘেরা, উর্বর একটি দেশ। এ দেশে অনেক সম্পদ আছে। কিন্তু এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না কেন? শুধু অসৎ নেতৃত্বের কারণে এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না। গত সাড়ে ১৫ বছরে কমপক্ষে ২৮ লাখ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়েছে। এ টাকাগুলো কার? এ টাকাগুলো ১৮ কোটি মানুষের। রাস্তায় যিনি ভিক্ষা করেন এই টাকার অংশে তিনিও আছেন। আজকের জন্ম নেওয়া শিশুরও অংশ আছে। রাষ্ট্রের আয়ের তিনটি খাত- একটি হলো ট্যাক্স, আর একটি বিদেশি অনুদান, আর বিদেশি সাহায্য। এ তিনটি মিলে রাষ্ট্রের তহবিল গঠন হয়। এই তিনটিতে সমস্ত মানুষ অংশীদার। তারা জনগণের টাকা চুরি করে বড়লোক হয়েছে। তারা পরিবারসহ টাকা বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, জীবন বাজি রেখে, জীবন দিয়ে যারা আমাদেরকে ঋণী করে গেলেন তাদের প্রতি এ দেশ, জাতি, রাজনৈতিক দল আর নেতৃবৃন্দ কী সম্মান দেখালো? তাদেরতো স্বপ্ন ছিল একটি ন্যায় ও সাম্যের বাংলাদেশ তারা কায়েম করবেন। মানুষের জীবনে অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে। সন্তানরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে। আসলে কিছুই হলো না। কার কারণে হলো না? এর জন্য কি সাধারণ জনগণ দায়ী? অবশ্যই না।

তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোটে উৎসাহ দিয়ে বলেন, দুটি ভোট। প্রথমে গণভোট, গণভোটে মহান আল্লাহ তায়ালা যেন ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী করেন। ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে পুরনো, পচা রাজনীতির চিত্র পাল্টে যাবে ইনশাআল্লাহ। ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিষয় হলো বাংলাদেশ বিজয়ী হবে। ‘হ্যাঁ’ ভোট পরাজিত হলে বাংলাদেশ পরাজিত হবে। আল্লাহ তায়ালা যেন বাংলাদেশকেই বিজয়ী করেন। এরপর বাংলাদেশ বিজয়ী হলে বাংলাদেশ চালাবে কে? যাদের সৎ চরিত্র আছে, দেশের প্রতি দায়বোধ আছে, দেশের প্রতি অঙ্গীকার আছে, দেশপ্রেম আছে, যারা সামান্য বাতাসে দেশ ছেড়ে পালায় না এই দেশ তারা চালাবে ইনশাআল্লাহ।

শ্রমিকদের প্রসঙ্গে বলেন, চা-বাগানের আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনেরা যারা আছে, যারা অত্যন্ত অমানবিক জীবনযাপন করে এবং তাদের সন্তানেরা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সেবা থেকে বঞ্চিত। যুগ যুগ ধরে একই পেশায় পড়ে আছে। আমরা চা-বাগানেও আধুনিকতা কায়েম করব, প্রযুক্তিসমৃদ্ধ করব, সেই মানুষগুলোরও জীবনমানের পরিবর্তন করব ইনশাআল্লাহ। তাদের একটা সন্তানও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে না।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় আমির হবিগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ, মহাসচিব হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী ড. আহমদ আব্দুল কাদের বাচ্চু, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, জাগপা ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদ প্রধান, জাকসু জিএস মাজহারুল ইসলাম, নেজামে ইসলাম সিলেট মহানগর আমির মাওলানা জোবায়ের রহমান খান, হবিগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী মুফতি মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মিরপুরী, গণ অধিকার পরিষদ থেকে সদ্য জামায়াতে যোগ দেওয়া নেতা অ্যাডভোকেট আশরাফুল বারী নোমান ও জেলা এনসিপির আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল প্রমুখ।

    শেয়ার করুন: