নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে হাইকোর্টে যাচ্ছে ১১ দল

সংগৃহীত ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে উচ্চ আদালতে রিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট।
আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জোটের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে জালিয়াতি, ভোটকেন্দ্র দখলসহ নানা অনিয়মের বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য আগামীতে সংসদে ও সংসদের বাইরে ১১ দলীয় ঐক্য হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়। দেশ, জাতি ও জনগণের স্বার্থে যখন যে ভূমিকা রাখা প্রয়োজন হবে, এক সঙ্গে ১১ দল তা রাখবে বলেও সবাই সম্মত হয়।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়- নির্বাচনী ঐক্য কেবল ভোটের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং আগামীতে সংসদ এবং সংসদের বাইরেও এই ১১ দল একসঙ্গে ভূমিকা রাখবে। দেশ, জাতি ও জনগণের স্বার্থে যখন যে ধরনের কর্মসূচি বা পদক্ষেপ প্রয়োজন হবে, জোটগতভাবেই তা পালন করা হবে। বৈঠকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, খেলাফত মজলিস, জাগপা, লেবার পার্টিসহ জোটের অন্যান্য শরিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফল নিয়েও আলোচনা হয়। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হওয়ায় সংসদের উচ্চকক্ষে ১০০টি আসনে রাজনৈতিক দলগুলো প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন পাবে। জনগণ ‘হ্যাঁ’-কে জয়যুক্ত করায় এখানে কোনো দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়ার সুযোগ নেই। সংসদ কার্যকর হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানায় ১১ দলীয় ঐক্য।
নির্বাচনের আগে ও পরে ১১ দলীয় ঐক্যের নারী কর্মীদের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানানো হয় বৈঠকে। নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সহিংসতা বন্ধ না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে জোট। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আঁতাত না করে জনআকাঙ্ক্ষার আলোকে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। বৈঠক শেষে জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

