দেশভেদে বদলে যায় রোজার ঘণ্টা—কারণ কী?

সংগৃহীত ছবি
আর কিছুদিন পরেই পবিত্র মাহে রমজান। ১৮ বা ১৯ ফেব্রুয়ারি চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে শুরু হবে রমজান মাস। এ মাসে পবিত্র কুরআন অবর্তীন হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে,রমজান মাসে পবিত্র কোরআন অবর্তীন করা হয়েছে। আরেকটি আয়াতে বলা হয়েছে,হে ইমানদ্বারগণ!তোমাদের উপর রমজানের রোজা ফরজ করা হল। এ পবিত্র মাসে সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকবেন। ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা রোজা রাখতে হয়।
১ হাজার ৪০০ বছরের বেশি আগে এই রমজান মাসেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর ওপর পবিত্র কোরআনের প্রথম আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়েছিল।
রোজা পালনের ক্ষেত্রে দিনের বেলায় পানাহার, ধূমপান ও শারীরিক সম্পর্ক থেকে বিরত থাকতে হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ‘তাকওয়া’ বা খোদাভীরুতা অর্জন করা।
কেন প্রতিবছর রমজানের তারিখ পরিবর্তিত হয়
মূলত,প্রতিবছর রমজান মাস আগের বছরের তুলনায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে শুরু হয়। এর কারণ ইসলামি ক্যালেন্ডার চন্দ্রনির্ভর হিজরি বর্ষপঞ্জির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে মাসগুলো ২৯ বা ৩০ দিনের হয়ে থাকে।
তবে, উত্তর গোলার্ধে বসবাসকারী বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষের জন্য এ বছর রোজার সময় কিছুটা কম হবে। ২০৩১ সাল পর্যন্ত এ সময় কমতে থাকবে। কারণ, তখন রমজান মাস বছরের সবচেয়ে ছোট দিনের কাছাকাছি চলে আসবে।
অন্যদিকে দক্ষিণ গোলার্ধে বসবাসকারী মুসলিমদের জন্য রোজার সময় গত বছরের তুলনায় দীর্ঘতর হবে। এছাড়ও গত বছরের তুলনায় দীর্ঘতর হবে দক্ষিণ গোলার্ধে বসবাসকারী মুসলিমদের জন্য।
সৌরবর্ষের তুলনায় চান্দ্রবর্ষ ১১ দিন কম হওয়ায় ২০৩০ সালে পবিত্র রমজান মাস দুইবার পালিত হবে। প্রথমটি শুরু হবে ৫ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয়টি ২৬ ডিসেম্বর।
বিশ্বজুড়ে রোজা রাখার সময়
বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে দিনের আলোর স্থায়িত্ব ভিন্ন ভিন্ন হয়।যেহেতু উত্তর গোলার্ধে এখন শীতকাল। তাই, সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য রোজার সময় সবচেয়ে কম হবে। প্রথম দিকে রোজা রাখতে হবে প্রায় ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা, যা মাসজুড়ে ধীরে ধীরে বাড়বে।
চিলি, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে বসবাসকারী মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে দীর্ঘ সময় রোজা রাখতে হবে। প্রথম দিন তাদের রোজা রাখতে হবে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা, তবে মাসজুড়ে এ সময় ধীরে ধীরে কমতে থাকবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানীর রোজার সময়সূচি
বাংলাদেশের ঢাকায় প্রথম রোজায় সাহ্রির শেষ সময় ভোর ৫টা ১৩ মিনিট। এদিন ইফতার হবে সন্ধ্যা ৫টা ৫৬ মিনিটে। অর্থাৎ প্রথম দিন সব মিলিয়ে ১২ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট রোজা রাখতে হবে। রমজানের শেষ দিনে সাহ্রির শেষ সময় ৪টা ৪৭ মিনিট এবং ইফতার হবে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে। সে হিসেবে শেষ দিনে রোজার সময় দাঁড়াবে ১৩ ঘণ্টা ২৩ মিনিট।
ভারতের নয়াদিল্লিতে প্রথম রমজানে সাহ্রির শেষ সময় ভোর ৫টা ৩৭ মিনিট। এদিন ইফতার হবে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে। সে হিসেবে প্রথম দিনে রোজার ব্যাপ্তি হবে ১২ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট। আর রমজানের শেষ দিনে সাহ্রির শেষ সময় ভোর ৫টা ৭ মিনিট। ইফতার হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৩ মিনিটে। বলা যায়, শেষ দিনে টানা ১৩ ঘণ্টা ২৬ মিনিট ভারতে রোজা পালন করতে হবে।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে প্রথম রমজানে সাহ্রির শেষ সময় ভোর ৫টা ২৬ মিনিট এবং ইফতার সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে। সেই হিসাবে প্রথম দিনে রোজা রাখতে হবে ১২ ঘণ্টা ২৯ মিনিট। রমজানের শেষ দিনে সাহ্রির শেষ সময় ভোর ৪টা ৫০ মিনিট এবং ইফতার হবে সন্ধ্যা ৬টা ১৯ মিনিটে। শেষ দিনে পাকিস্তানে রোজার সময় দাঁড়াবে ১৩ ঘণ্টা ২৯ মিনিট।
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে প্রথম রমজানে সাহ্রির শেষ সময় ভোর ৬টা ১৭ মিনিট এবং ইফতার সন্ধ্যা ৭টা ২৮ মিনিটে। প্রথম দিনে রোজা রাখতে হবে ১৩ ঘণ্টা ১১ মিনিট। রমজানের শেষ দিনে সাহ্রির শেষ সময় ভোর ৬টা ১০ মিনিট এবং ইফতার হবে সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে; অর্থাৎ শেষ দিনে রোজার সময় দাঁড়াবে ১৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট।
শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে প্রথম রমজানে সাহ্রির শেষ সময় ভোর ৫টা ১৭ মিনিট এবং ইফতার সন্ধ্যা ৬টা ২৩ মিনিটে। সেই হিসাবে প্রথম দিন রোজা রাখতে হবে ১৩ ঘণ্টা ৬ মিনিট। রমজানের শেষ দিনে সাহ্রির শেষ সময় ভোর ৫টা ৬ মিনিট এবং ইফতার হবে সন্ধ্যা ৬টা ২২ মিনিটে; অর্থাৎ শেষ দিনে রোজার সময় হবে ১৩ ঘণ্টা ১৬ মিনিট।
বিভিন্ন ভাষায় রমজানের শুভেচ্ছা
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রান্তে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের নিজস্ব ভাষায় পবিত্র রমজান মাসের শুভেচ্ছা বিনিময় করে থাকেন। সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত শুভেচ্ছা হলো আরবি শব্দ ‘রমজানুল কারিম’। এর অর্থ ‘রমজান হোক কল্যাণময়’।
এ ছাড়া ইংরেজি, বাংলা, উর্দু ও হিন্দিতে ‘রমজান মোবারক’ বলে বরকতময় মাসকে শুভকামনা জানানো হয়। ফারসি ভাষায় বলা হয় ‘মাহে রমজান মোবারক’।
তুর্কি ভাষায় শুভেচ্ছা জানাতে বলা হয় ‘রমাজান আয়িনিজ মুবারক ওলসুন’। মালয় ভাষায় সচরাচর ‘সেলামাত বেরপুয়াসা’ এবং সোমালি ভাষায় ‘সুন ওয়ানাগসান’ বলে রমজানের শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।
অন্যদিকে স্প্যানিশ–ভাষীরা একে অপরকে ‘ফেলিজ রামাদান’ বলে সম্ভাষণ জানান। ভাষার ভিন্নতা থাকলেও প্রতিটি শুভেচ্ছার মূল উদ্দেশ্য হলো এই পবিত্র মাসে একে অপরের সুখ, সমৃদ্ধি ও আল্লাহর রহমত কামনা করা।

