জাবের-জুমাদের ওপর ‘আওয়ামী’ বাহিনী লেলিয়ে দেওয়া হয়: ঢাবি শিক্ষিকা মোনামী

শেহরিন আমিন ভূঁইয়া
এই কদিন ঢাকার বাইরে ছিলেন, আজ রবিবার ঢাকায় ফিরেই জানতে পারলেন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শেহরিন আমিন ভূঁইয়া মোনামী। তিনি দাবি করেন, সেদিন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের ওপর আওয়ামী বাহিনীকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এক ফেসবুক পোস্টে মোনামী বলেন, আমি গত তিন দিন ঢাকার বাইরে ছিলাম। কারণ আমাকে নিয়ে যে ধরনের একের পর এক মিথ্যাচার ও নোংরামি হচ্ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেগুলো আর নেয়া যাচ্ছিল না। তাই মনটা একটু হালকা করতে একদম নেটওয়ার্কের বাইরেই ছিলাম গত তিনদিন।
এই শিক্ষিকা ঢাকায় থাকলে সেদিনের আন্দোলনে যোগ দিতেন জানিয়ে বললেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চ যখন তাদের পরিকল্পনা ঘোষণা করলো, তখন আমি ইতিমধ্যেই আমার যাত্রা শুরু করে দিয়েছিলাম, যদি তা না হতো, তাহলে আমি অবশ্যই শহীদ ওসমান হাদির বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ তথা জাবের, ঝুমা, শান্তার সাথে যোগ দিতাম।’
আওয়ামী বাহিনীকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে দাবি করে শেহরিন আমিন বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখজনক যে, আজ সকালে ঢাকা ফিরে এসেই জানতে পারলাম যে ইনকিলাব মঞ্চের প্রায় সকল সদস্যকেই সেদিন মারধর করা হয়েছিল এবং তারা বেশ কজন আহতও হয়েছেন। আমি speechless হয়ে গেলাম। প্রিয় ইন্টেরিম। এই সিস্টেম চালায় কে/কারা? আমাকে কি বিশ্বাস করতে হবে যে ড. ইউনূস, আপনি অর্ডার দিয়েছেন ওদের প্রতিহত করতে? এভাবেই কি শহীদের ভাই-বোনদের সঙ্গে আচরণ করা হয়? কীভাবে আপনারা আপনাদের “পুনর্বাসিত” আওয়ামী বাহিনীকে জুলাইয়ের সেই যোদ্ধাদের ওপর লেলিয়ে দিতে পারলেন?’
মোনামী বলেন, ‘শহীদ হাদির জন্য সঠিক তদন্ত ও বিচার কোনো রাজনৈতিক সরকারই নিশ্চিত করবে—এমন সম্ভাবনা খুব কম। তাই আপনারাই ছিলেন তাদের একমাত্র আশা। তারা সেখানে গিয়েছিল তাদের ভাইয়ের জন্য ন্যায়বিচার চাইতে, যে আপনাদের আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার কারণেই প্রাণ হারিয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত আপনারা জাতিসংঘের সম্পৃক্ততার জন্য যোগাযোগ করেছেন।
এখন পর্যন্ত হাদির বিচার প্রক্রিয়া যেভাবে এগিয়েছে তা নিয়ে হতাশ ঢাবি শিক্ষিকা। তিনি বলেন, ‘আপনি কতটা sincerely and avidly এই বিষয়টি নিয়ে অগ্রসর করেন, আপনি আদৌ চান কিনা আমাদের ভাই হত্যার বিচার দিতে, তা পরিস্কার হয়ে যাবে, আপনার তৎপরতা দেখলে, যা এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে হতাশাজনক। আমরা জানি, আপনি যদি বিষয়টি আন্তরিকভাবে অনুসরণ করেন, তারা দ্রুত সাড়া দেবে। তাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন এবং অন্তত একটি কাজ সঠিকভাবে করুন। এই দেশ, শহীদরা—শহীদ হাদি—আপনার কাছে সেই দায় দাবি করে।’

