চীনের কাছে লড়াই করে হেরেছে বাংলাদেশ

শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে লড়াই করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ছবি: বাফুফে
বাংলাদেশ ফুটবলের এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে। নারী এশিয়ান কাপের মঞ্চে চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিষেক হলো বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের। শক্তিশালী চীনকে ৪৩ মিনিট পর্যন্ত আটকে রাখলেও বিরতির আগে তিন মিনিটে দুই গোল হজম করেছে পিটার বাটলারের দল।
শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের হারেই টুর্নামেন্ট শুরু করল বাংলাদেশ। বিরতির পর আর কোনো গোল হজম করেননি আফাঈদা খন্দকাররা। নারী এশিয়ান কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে শক্তিতে অনেক পিছিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গেছে বাংলাদেশ।
চীনের ফিফা র্যাঙ্কিং ১৭, বাংলাদেশের ১১২। লড়াইটা তাই অসম হওয়ার কথা। তবে মুগ্ধতা ছড়িয়ে চোখে চোখ রেখে লড়াই করে গেছে বাংলাদেশ। এশিয়ান কাপের বর্তমান ও সবচেয়ে বেশি বারের চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কেবল ২ গোলই হজম করেছে তারা।
৪৪তম মিনিটে দূরপাল্লার শটে গোল করেন চীনের মিডফিল্ডার ওয়াং সুয়াং। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়ান তিনি। ৪৬তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে চীনের মিডফিল্ডার ঝ্যাং রুইয়ের নিচু শট বাংলাদেশের ডিফেন্ডার কোহাতি কিসকুর পায়ে লেগে জালে জড়ায়।
তিন মিনিটে দুই গোল হজম করে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। এর আগে ২৪ মিনিটে চীনের একটি গোল বাতিল হয়েছিল অফসাইডের কারণে। ভিএআরে গোল বাতিল করেন রেফারি।
১৪তম মিনিটে গোল পেতে পারত বাংলাদেশ। বাঁ উইং ফাঁকা পেয়ে উইঙ্গার ঋতুপণা গায়ের সঙ্গে লেগে থাকা ডিফেন্ডারকে নিয়েই বাঁ পায়ের দূরপাল্লার শট নিয়েছিলেন। গোলপোস্টে বল যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে শূন্যে লাফিয়ে চীনের গোলকিপার চেন চেন বাঁচান দলকে। ৩৩ মিনিটে হালকা চোট পেয়ে ঋতুপর্ণা মাঠ ছাড়লেও ফিরে আসেন তিন মিনিট পর।
৫৩ মিনিটে ডিফেন্ডার নবীরনকে তুলে মিডফিল্ডার স্বপ্না রানীকে মাঠে নামান কোচ পিটার বাটলার। তিনি মাঠে নামার পর আক্রমণের ধার কিছুটা বাড়ে বাংলাদেশের।
৭৪ মিনিটে ডিবক্সে শামসুন্নাহার জুনিয়রকে ফেলে দেন চীনের ডিফেন্ডার লিউ ইয়াটং। এক মিনিট পর ভিএআর চেক হয় পেনাল্টি ছিল কি না তা নিশ্চিত হতে। কিন্তু রেফারি মাঠের বাইরে মনিটর দেখে জানান, পেনাল্টি ছিল না সেটা।
৮৬ মিনিটে হালিমাকে তুলে মিডফিল্ডার আনিকা রানিয়াকে নামান কোচ পিটার বাটলার। তাতে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হলো বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত এই সুইডেন প্রবাসীর। তবে শেষ দিকে ম্যাচে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি তিনি।
অভিজ্ঞ গোলরক্ষক রুপনা চাকমাকে একাদশে রাখেননি কোচ বাটলার। এবারের লিগেও কোনো ম্যাচে গোল হজম করেননি তিনি। তুলনায় বেশি লম্বা হওয়াতেই রুপনার পরিবর্তে গোলপোস্ট সামলাচ্ছেন মিলি আক্তার।
বাংলাদেশ একাদশ
গোলরক্ষক: মিলি আক্তার ; ডিফেন্ডার: আফাঈদা খন্দকার (অধিনায়ক), শিউলি আজিম, কোহাতি কিসকু, শামসুন্নাহার সিনিয়র, নবীরন খাতুন ; মিডফিল্ডার: মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমা, উমেহলা মারমা, ঋতুপর্ণা চাকমা ; ফরোয়ার্ড: শামসুন্নাহার জুনিয়র।

