শান্ত-মুমিনুলের ব্যাটে প্রথম সেশন বাংলাদেশের

ছবি: মোশারফ ভুবন
শুরুর ১০ ওভারে ৩১ রান তুলতেই হারাতে হয় দুই উইকেট। দিনের শুরুতে উইকেট থেকে পাওয়া আর্দ্রতা বেশ কাজে লাগিয়েছেন পাকিস্তানি বোলাররা। তবে প্রথম ৩০ মিনিটের ধাক্কা সামলে বাংলাদেশকে দারুণভাবে ম্যাচে ফিরিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। প্রথম সেশনে আর কোনো ক্ষতি হতে দেননি দুজনে। তাদের অপরাজিত ৭০ রানের জুটিতে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে যুক্ত হয়েছে ২ উইকেটে ১০১ রান। শান্ত অপরাজিত ৩৯ রানে, মুমিনুল ৩১ রানে।
টেস্টের প্রথম দিনের প্রথম ঘণ্টায় পিচে থাকা আর্দ্রতা সব দলই কাজে লাগাতে চায়। পাকিস্তানও ব্যতিক্রম নয়। টস জিতে তাই ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত জানাতে দ্বিধা করেননি অধিনায়ক শান মাসুদ। শুরুর ঘণ্টায় দুই উইকেট তুলে নিয়ে এই সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণও করেন তার বোলাররা।
সপ্তম ওভারে মাহমুদুল হাসান জয়কে শাহিন শাহ আফ্রিদি ও এগারতম ওভারে সাদমান ইসলামকে ফেরান হাসান আলি। শুরুর ঘণ্টার দুই সাফল্যের পর অবশ্য পাকিস্তান বোলারদের দাপট কমে আসে।
টেকনিকের দিক থেকে মুশফিকুর রহিমের পর সেরা ব্যাটার বলা হয় শান্তকে। তেমন একটি ইনিংস মিরপুর টেস্টের প্রথম সেশনে এখন পর্যন্ত দেখালেন বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক। মাঝ ব্যাটে খেলা শটগুলোতে ছিল আত্মবিশ্বাস। ৫০ বলে ৩৯ রানের অপরাজিত ইনিংসে আছে চারটি চার। সালমান আলি আগার একটি শর্টপিচ বলে ব্যাকফুটে গিয়ে ছক্কা হাঁকাতেও ভুল করেননি। ইনিংসে এখন পর্যন্ত ছক্কা ওই একটিই।
শান্তর সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার সবটুকু দিয়ে খেলছেন মুমিনুল হক। সাবেক টেস্ট অধিনায়কও ইনিংস এগিয়ে নিচ্ছেন। তবে দিনের শুরুর দিকে ক্রিজে আসায় হাসান আলির বলে পরাস্ত হয়েছেন কয়েকবার। ভাগ্য সুপ্রসন্ন যে, ব্যাটের কানায় লেগে স্লিপ ফিল্ডারের হাতে যায়নি, গিয়েছে বাউন্ডারির বাইরে। তার ৫৭ বলে অপরাজিত ৩১ রানের ইনিংসেও আছে চারটি চার।
এর আগে একাদশে কোনো চমক না রেখেই নেমেছে বাংলাদেশ। তানজিদ তামিমের অভিষেক টেস্টের অপেক্ষা ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের। কিন্তু মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলামের উদ্বোধনী জুটির ওপরই ভরসা রাখে বাংলাদেশ। কিন্তু একবার জীবন পেয়েও মাত্র ৮ রানে শাহিদ আফ্রিদির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জয়। আর ৩০ বলে ১৩ রানের ইনিংস খেলে হাসান আলির বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ আউট হন সাদমান।
অন্যদিকে এই টেস্টে দুই অভিষিক্ত ক্রিকেটার নিয়ে নেমেছে পাকিস্তান। আবদুল্লাহ ফজল ও আজান আওয়াইস, দুজনই ওপেনার। টেস্টের আগের রাতে হাঁটুর ইনজুরির কারণে ছিটকে যান বাবর আজম।





