আগামীর সময়

ওয়ানডে সিরিজ

নতুন পাকিস্তানকে নিয়ে বাংলাদেশের ছেলেখেলা

নতুন পাকিস্তানকে নিয়ে বাংলাদেশের ছেলেখেলা

৫ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়েছেন নাহিদ রানা। ছবি: সংগৃহীত

একই উইকেট। দুই ইনিংসে শুধু দুই রূপ। শুরুতে ব্যাট করে পাকিস্তান যেখানে কাঁপছিল। সেখানেই আগ্রাসী ব্যাটিং করল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথমটিতে পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে জিতল ৮ উইকেটে। শাহিন শাহ আফ্রিদির দলের ১১৪ রানের চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ পেরিয়ে যায় ১৫.১ ওভারে ৮ উইকেট হাতে রেখে।

বাংলাদেশের হাতে ছিল ২০৯ বল, বাংলাদেশ এর চেয়ে বেশি বল হাতে রেখে জিতেছে আর মাত্র দুই ওয়ানডে।  দলের জিততে যখন ৬ রান দরকার, তখন নাজমুল হোসেন শান্ত আউট হয়েছেন। তাতে  বাংলাদেশের জয় একটু দেরিতে এলেও ইফতারের আগেই খেলা শেষ হয়েছে।

উইকেটের ব্যবধানে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটাই যৌথ সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয় বাংলাদেশের। ২০১৫ সালে মিরপুরে আগের জয়টাও ছিল ৮ উইকেটে। সেবার পাকিস্তানের ২৫০ রানের চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ পেরিয়ে যায় ৬৩ বল হাতে রেখে।

৪ নতুন মুখ নিয়ে নতুন দলই ছিল পাকিস্তান। তাদের নিয়ে ছেলেখেলাই করল বাংলাদেশ। তাদের শুরুটা অবশ্য খারাপ হয়নি। দুই অভিষিক্ত ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত গড়েন ৪১ রানের জুটি। দশম ওভারে নাহিদ রানা আক্রমণে আসার পরই বদলে যায় ম্যাচের ছবিটা। রানার গতিতে খেই হারিয়ে পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ১১৪ রানে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে এটাই সর্বনিম্ন স্কোর পাকিস্তানের। পাকিস্তানি সাবেক অধিনায়ক রমিজ রাজা ইনিংসটি দেখে বলছিলেন,‘ব্যাটিং ছিল বিরিয়ানি মিক্স’! টানা ৫ ওভারে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন রানা। ৭ ওভারে ২৪ রানে ৫ উইকেট নেন এই পেসার। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটাই সেরা বোলিং কোনো বাংলাদেশি বোলারের। ২০১৯ সালে লর্ডসে মোস্তাফিজুর রহমানের ৭৫ রানে ৫ উইকেট ছিল আগের সেরা।
১১৪ রানের পুঁজি নিয়ে পেরে উঠেনি পাকিস্তান। শাহিন শাহ আফ্রিদি প্রথম ওভারেই দেন ১০ রান। ৫ রানই আসে অতিরিক্ত থেকে। দ্বিতীয় ওভারে ১৫ রান পেয়েছে বাংলাদেশ। ফাহিম আশরাফের ওভারটিতে দুটি চার মারেন তানজিদ হাসান। ওয়াইড দুটি আর বাই রান ছিল ৪টি!


তৃতীয় ওভারে সাইফ হাসানের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আফ্রিদির ওভারটির চতুর্থ বলে পয়েন্টে শামিল হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন ১০ বলে ৪ রান করা সাইফ। সেই ধাক্কা কাটিয়ে সপ্তম ওভারের প্রথম বলেই পঞ্চাশ ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ। আর ম্যাচ শেষ করে ১৫.১ ওভারে।


১০৯ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ নাজমুল হোসেন শান্ত ৩৩ বলে ২৭ করে মোহাম্মদ ওয়াসিমের বলে ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। তানজিদ হাসান অপরাজিত ছিলেন ৪২ বলে ৫ বাউন্ডারি ৭ ছক্কায় ৬৭ রানে।


এর আগে ৮২ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ১০০-র আগে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা জেগেছিল পাকিস্তানের। তবে লেজের ঝাপ্টায় শেষ পর্যন্ত স্কোরটা পৌঁছে ১১৪ রানে।


শেষ উইকেটে ৩২ রানের জুটি গড়েন ফাহিম আশরাফ ও আবরার আহমেদ। এই জুটিতে আবরার শুধু সঙ্গ দিয়ে গেছেন ফাহিমকে। ১০ বল খেলে কোনো রানই করেননি তিনি। আট নম্বরে নামা আশরাফ ৪৭ বলে করেন ৩৭। তাসকিন আহমেদের ক্যাচ বানিয়ে তাকে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান।


টস হেরে ব্যাট করা পাকিস্তান প্রথম ৯ ওভারে বিনা উইকেটে করেছিল ৩৫ রান। প্রথম ৩৬ বলের ২৪টাই ডট খেলেছিল তারা! নাহিদ রানা আক্রমণে এসে ধসিয়ে দেন পাকিস্তানের টপঅর্ডার।

    শেয়ার করুন: