মারামারি করে হাসপাতালে ভালভার্দে, তোলপাড় রিয়াল মাদ্রিদ

চুয়ামেনি-ভালভার্দের মারামারি এখন মুখরোচক গল্প।
জমজমাট ‘এল ক্লাসিকো’র আগে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ইতোমধ্যে সবাই জেনে গেছে যে ড্রেসিংরুমে সতীর্থ অরেলিয়েঁ চুয়ামেনির সঙ্গে হাতাহাতি হয়েছিল ফেদেরিকো ভালভার্দের। এবার জানা গেল, ভালভার্দেকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। এতে এই উরুগুইয়ান মিডফিল্ডার আগামী রবিবারের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন।
বিবিসি স্পোর্টস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে ভালদেবেবাসে অনুশীলন চলাকালীন চুয়ামেনির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় ভালভার্দের। এক পর্যায়ে হাতাহাতির ফলে ভালভার্দের মাথা ফেটে রক্ত বের হতে শুরু করলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভালভার্দে ‘ক্র্যানিওএনসেফালিক ট্রমা’ বা এক ধরণের কনকাশনে ভুগছেন। তাকে আগামী ১০ থেকে ১৪ দিন পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে।
তবে মারামারির খবর অস্বীকার করেছেন ২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার। নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি দাবি করেন, তর্কের সময় রাগের মাথায় টেবিলের কোণায় আঘাত লেগে তার কপাল কেটে যায়। তিনি লেখেন, 'আমার সতীর্থ আমাকে মারেনি, আর আমিও তাকে আঘাত করিনি। তবে এটা সত্যি যে মৌসুমের শেষে দলের টানা ব্যর্থতায় আমি হতাশ ছিলাম এবং সেই ক্ষোভ থেকেই তর্কের সৃষ্টি।'
রিয়াল মাদ্রিদ এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। ইতোমধ্যে দুই খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মাদ্রিদ প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ, কোচ আলভারো আরবেলোয়া এবং অধিনায়ক দানি কারভাহালকে নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, ক্লাবের স্টাফরা এই ঘটনাকে ভালদেবেবাসের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে গুরুতর’ বলে অভিহিত করেছেন।
রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুমে অস্থিরতা এবারই প্রথম নয়। এর আগে আন্তোনিও রুডিগার ও আলভারো কারেরাসের মধ্যেও ঝামেলার খবর এসেছিল। এমনকি তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পের ‘খামখেয়ালি’ আচরণ ও ছুটির মেজাজ নিয়ে সমর্থকরাও ক্ষুব্ধ। ভালভার্দে নিজেই স্বীকার করেছেন, 'ক্লাবে কেউ একজন নিয়মিত ভেতরের খবর বাইরে ছড়াচ্ছে এবং কোনো শিরোপা না জেতায় সব কিছুই তিলকে তাল করা হচ্ছে।'
লা লিগায় বার্সেলোনার চেয়ে ১১ পয়েন্টে পিছিয়ে আছে রিয়াল। হাতে আছে মাত্র ৪টি ম্যাচ। রবিবার ন্যু ক্যাম্পে যদি রিয়াল জয় না পায়, তবে তিন ম্যাচ হাতে রেখেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো লিগ শিরোপা ঘরে তুলবে বার্সা।





