মৌরিতানিয়াকে হারাতে ঘাম ঝরল আর্জেন্টিনার

মৌরিতানিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। ছবি: সংগৃহীত
বুয়েন্স আইরেসেরে লা বোমবোনেরা দর্শকরা হতাশই হয়েছিলেন আর্জেন্টিনার একাদশ দেখে। দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসিই যে নেই। ফিফা র্যাংকিংয়ে ১১৫ নম্বরে থাকা মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের চেয়ে দর্শকদের বেশি আগ্রহ ছিল মেসিকে ৯০ মিনিট খেলতে দেখা। তবে কোচ স্কালোনি শুরুর একাদশে রাখেননি মেসিকে।
ফল
আর্জেন্টিনা ২ : ১ মৌরিতানিয়া
মৌরিতানিয়ার সঙ্গে র্যাংকিংয়ে ১১২ ধাপ এগিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা বিরতির আগে এগিয়ে গিয়েছিল ২-০ গোলে। আর তারা মাঠ ছেড়েছে ২-১ গোলের জয়ে। বিরতির পর পাল্টা আক্রমণে আর্জেন্টিনাকে চমকে দিয়েছিল মৌরিতানিয়া।
আর্জেন্টিনা ৬৫.২ শতাংশ বলের দখল রেখে খেলে পোস্টে শট নিয়েছিল ৭টি, লক্ষ্যে ছিল এর ৪টি। আর মৌরিতানিয়া পোস্টে শট নিয়েছিল ১০টি। তারা লক্ষ্যে রাখতে পারে ৪টি। এই পরিসংখ্যানই বলছে ম্যাচ জিততে কতটা ঘাম ঝরেছে আর্জেন্টিনার।
আর্জেন্টিনার হয়ে একটি করে গোল এনসো ফের্নান্দেস, ও নিকো পাজের.। ৯৪তম মিনিটে মৌরিতানিয়া হয়ে এক গোল ফেরান জর্ডান লেফোর্ট। বিরতির পরই মাঠে নিকো পাজের বদলি হয়ে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। দর্শকরা তখন স্লোগান তুলেছিল এই কিংবদন্তির নামে। লিওনেল মেসির সঙ্গে বদলি নামেন ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো ও রদ্রিগো দি পলও।
তবে গ্যালারির একটা অংশ ফাঁকা থাকায় চোখে লাগছিল ভীষণ। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন দাবি করেছে দুটি প্রীতি ম্যাচের সব টিকিট বিক্রি হয়েছে। কিন্তু গ্যালারিতে এর প্রমাণ নেই। র্যাংকিংয়ে ১১৫ নম্বরে থাকা মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে হয়তো ম্যাচ দেখতে আগ্রহ পাননি স্থানীয়রা।
১৭ মিনিটে নাহুয়েল মলিনার ক্রসে বক্সের মাথা থেকে নেওয়া শটে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন এনসো ফের্নান্দেস। ডান দিক থেকে নাহুয়েল মোলিনার ক্রসে হুলিয়ান আলভারেসের ডামিতে পেনাল্টি স্পটের কাছে বল পান ফের্নান্দেস। ৩২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নিকো পাজ। জাতীয় দলের হয়ে প্রথম গোলটা তিনি করেন ফ্রিকিকে। বেঞ্চ থেকে এই গোলের উৎসবে সামিল হয়েছিলেন মেসি। বিরতির পর মেসি নামলেও আর গোলের দেখা পায়নি আর্জেন্টিনা।
৫৪তম মিনিটে মেসির বাঁকানো শট একজনের গায়ে লেগে পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। সাত মিনিট পর একটুর জন্য দে পলের বাড়ানো বলের নাগাল পাননি মেসি।
উল্টো মৌরিতানিয়া আক্রমণের ধার বাড়িয়ে জমিয়ে তুলেছিল ম্যাচ। ৮৯তম মিনিটে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোকে কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যান সুলেমানে আনে। কিন্তু মার্তিনেসকে ফাঁকি দিতে পারেননি তিনি। ইনজুরি টাইমের চতুর্থ মিনিটে একটি গোল ফেরায় তারা। ফ্রি কিকের পর জটলার মধ্যে বল পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেন লেফোর্ট। মৌরিতানিয়ার হয়ে অভিষেকেই গোল পেলেন তিনি।
বিশ্বকাপের আর মাত্র আড়াই মাস বাকি থাকলেও মেসির খেলার নিশ্চয়তা দেননি কোচ স্কালোনি। একাধিক সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক জানিয়েছেন, কেবল সুস্থ থাকলে এবং ফর্মে থাকলেই আরও একটি বিশ্বকাপে খেলবেন তিনি। তবে স্কালোনি জানালেন,‘আমি তাকে দলে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। ফুটবলের স্বার্থেই তার থাকা উচিত বলে আমি বিশ্বাস করি। তবে সিদ্ধান্তটা আমার নয়, মেসির নিজের। ওর মানসিক অবস্থা ও শারীরিক ফিটনেসই এখানে আসল ব্যাপার।’

