ম্যারাডোনার সেই বাড়ি এখন অসহায়দের খাবার ঘর

ম্যারাডোনার বাড়ির আঙিনায় রান্না হয় দরিদ্রদের জন্য। ছবি: সংগৃহীত
শত শত মানুষ খাবারের জন্য লাইনে দাঁড়ান একটি বাড়ির সামনে। বুয়েনস আইরেসর উপকণ্ঠ ভিলা ফিওরিতোর সেই বাড়িতেই জন্ম ডিয়েগো ম্যারাডোনার। তিনি এখন পৃথিবীর ওপারের বাসিন্দা। বাড়ির মালিকানাও নেই ম্যারাডোনার পরিবারের। তারপরও বাড়ির নতুন মালিক দেয়ালে রেখে দিয়েছেন বড় করে আঁকা ম্যারাডোনার ছবি। এমনকি রয়ে গেছে‘ঈশ্বরের বাড়ি’ লেখাটাও।
আরও একটা কাজ করেছেন নতুন মালিক। স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে সেই বাড়ির উঠানকে ব্যবহার করতে দিয়েছেন দাতব্য কাজে। এই আঙিনায় নিয়মিত চুলা জ্বালিয়ে রান্না হয় এলাকার দরিদ্র মানুষদের জন্য।
ম্যারাডোনার এই বাড়িকে ২০২১ সালে জাতীয় ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই বাড়িরই ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে. গত বৃহস্পতিবার মারিয়া তোরেস উত্তপ্ত হতে থাকা বড় বড় পাতিলে খাবার নেড়ে দিচ্ছিলেন। অন্যরা ব্যস্ত ছিলেন আলুর খোসা ছাড়ানো আর মুরগি কাটায়।
লিওনার্দো ফ্যাবিয়ান আলভারেস নামের একজন যাজক এই অস্থায়ী খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রটি পরিচালনা করছেন। তিনি রয়টার্সকে বলেছেন,‘ ছোট ছোট কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভিলা ফিওরিতোও এবং অন্যান্য পাড়ায় খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে। মানুষ তাদের চাকরি হারিয়েছে,খাবার প্রত্যাশী মানুষের লাইন তাই বড় হচ্ছে।। তারা লাইনে আসে, খাবার নেয়, আমরা যা দেই তাই নিয়ে যায়।’
আর্জেন্টিনায় দারিদ্র্যের হার কমে আসলেও, সামাজিক প্রেক্ষপটে এটা চিন্তার বড় কারণ। বলে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের শুরুতে দারিদ্র্যের হার কমে এসেছিল ৩১.৬ শতাংশে যা ২০২৪ সালের একই সময়ে ছিল ৫২.৯ শতাংশ। এই হারটা আরও না কমা পর্যন্ত খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র হিসেবেই থাকবে ম্যারাডোনার সেই বাড়ি।

