শাস্তির মুখোমুখি হামজার ক্লাব

সংগৃহীত ছবি
ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে লেস্টার সিটি বর্তমানে ভালো অবস্থায় নেই। দলটির দুশ্চিন্তা আরো বেড়েছে, কারণ সম্প্রতি ইনজুরির কারণে হামজা চৌধুরী দল থেকে ছিটকে পড়েছেন। এর পরেই আরো বড় একটি ধাক্কা খেল ক্লাবটি।
ইংলিশ ফুটবল লিগ (ইএফএল) কর্তৃপক্ষ আর্থিক নিয়ম ভাঙার অভিযোগে লেস্টার সিটির ৬ পয়েন্ট কেটে নিয়েছে। ফলে লেস্টার সিটি এখন পয়েন্ট তালিকায় ২০তম স্থানে নেমে গেছে, যেখানে তারা আগে ১৭তম স্থানে ছিল।
লেস্টারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রিমিয়ার লিগ যে শাস্তির দাবি করেছিল, তা কমিশনের পর্যবেক্ষণের পর অনেকটাই কমানো হয়েছে। তবে সুপারিশটি এখনো অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আমাদের উপস্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। এসব বিষয় চলতি মৌসুমে আমাদের লক্ষ্যকে প্রভাবিত করতে পারে, তাই এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
চ্যাম্পিয়নশিপে ২৪ দলের মধ্যে লেস্টারের অবস্থান যদিও অবনমন অঞ্চলের তিনটি দল থেকে উপরে, কিন্তু তাদের পয়েন্টের সমানই ওয়েস্ট ব্রুম এবং ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের। গোল গড়ের কারণে লেস্টার তাদের থেকে এক ধাপ উপরে রয়েছে।
২০২২-২৩ মৌসুমে লেস্টারের আর্থিক বিবরণীতে বলা হয়, তারা ওই সময় ৮ কোটি ৯৭ লাখ পাউন্ড লোকসান করেছে, এবং ২০২২ সালের মে পর্যন্ত ১২ মাসে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লোকসান ছিল ৯ কোটি ২৫ লাখ পাউন্ড। তবে এই হিসাবের মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণ বা নারী ফুটবলে বিনিয়োগের মতো খরচগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়নি, যা সাধারণভাবে ক্লাবের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় হিসেবে গণ্য হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা এখন পুরো সিদ্ধান্তটি পর্যালোচনা করছি এবং আমাদের সামনে কী কী বিকল্প আছে, তা বিবেচনা করছি। আমরা গঠনমূলকভাবে আলোচনা করতে চাই এবং নিশ্চিত করতে চাই যে, যেকোনো পদক্ষেপ যেন ন্যায্য, আনুপাতিক এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নেওয়া হয়।’
পিএসআর নীতিমালা অনুযায়ী, প্রিমিয়ার লিগের কোনো ক্লাব তিন বছরে সর্বোচ্চ ১০ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড লোকসান করতে পারবে, তবে দ্বিতীয় স্তরে নেমে গেলে প্রতি মৌসুমে এই সীমা ২ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড করে কমে যায়। ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, লেস্টার সিটির লোকসান হয়েছে ১ কোটি ৯৪ লাখ পাউন্ড।
প্রিমিয়ার লিগের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও লেস্টার সিটি চ্যাম্পিয়নশিপে নেমে যাওয়ার পর, মামলাটি পরিচালনার দায়িত্ব নেয় ইএফএল।

