সিরিয়ায় অবশিষ্ট ১০০০ সেনা সরিয়ে নিচ্ছে ওয়াশিংটন

সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ–রাজনীতির দীর্ঘ অধ্যায়ে একের পর এক মোড় বদলের সাক্ষী হয়েছে বিশ্ব। ইরাক যুদ্ধ, আইএসবিরোধী অভিযান, ক্ষমতার পালাবদল, এ সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে সিরিয়া। সেই ইতিহাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবার সমাপ্তির পথে। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সিরিয়ায় অবস্থানরত অবশিষ্ট প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবেদনে তিনজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করে, তারা ইরাক ও জর্ডান সীমান্তসংলগ্ন দক্ষিণ সিরিয়ায় অবস্থিত আল-তানফ ঘাঁটি থেকে সরে যাচ্ছে।
ঘাঁটিটি আইএসআইএল (আইএসআইএস)-বিরোধী বৈশ্বিক জোটের অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। এক সময় এই গোষ্ঠী সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত, তবে ২০১৭ সালে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) গত সপ্তাহে জানায়, এই ‘সুশৃঙ্খল প্রস্থান’ ছিল ‘পরিকল্পিত ও পরিস্থিতিনির্ভর রূপান্তরের অংশ।’
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, সিরিয়ায় মার্কিন সেনাদের ব্যাপক প্রত্যাহার আগামী দুই মাসে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অন্তত জানুয়ারি থেকে পূর্ণ প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করে আসছে।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত কর্মকর্তারা বলেন, সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের অন্যত্র মার্কিন নৌ ও বিমান শক্তি বৃদ্ধির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তারা এ কথা বলেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন এবং চলমান পারমাণবিক আলোচনায় অসন্তোষের জেরে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
সেই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ইরান-সংলগ্ন অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড নামের দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী বর্তমানে ওই অঞ্চলের দিকে রওনা রয়েছে।
সূত্র : আলজাজিরা

