করাচিতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, আবাসিক ভবন ধসে নিহত অন্তত ১৩

করাচির সোলজার বাজার এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের অংশ ধসে পড়ে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এতে আরো ১৩ জন আহত হয়েছে বলে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ফলে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনাটি সোলজার বাজারের গুল রানা কলোনির একটি বাসভবনে ঘটে। নিহত ও আহতদের সিভিল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ডিস্ট্রিক্ট ইস্ট পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, ‘প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস লিকেজের কারণে বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে ভবনের একটি অংশ ধসে পড়ে।’
রেসকিউ ১১২২ জানায়, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাস্থলে একটি আরবান সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ দল এবং একটি দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া যান মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশের মুখপাত্র আরো বলেন, ঘটনার পরপরই বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
তিনি বলেন, ‘পুলিশ এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করে এবং উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।’
সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলি শাহ ঘটনাটির বিষয়ে অবগত হয়ে প্রাণহানিতে শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, মুরাদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ‘ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের অবিলম্বে উদ্ধার’ এবং আহতদের ‘সম্ভব সর্বোত্তম’ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে করাচি কমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে মহানগরের লিয়ারি এলাকায় পাঁচতলা একটি ভবন ধসে অন্তত ২৭ জন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছিল।
ভবনটি জীর্ণ অবস্থার কারণে কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই বসবাসের অনুপযোগী ঘোষণা করেছিল।
তখন এক বিবৃতিতে সিন্ধ বিল্ডিং কন্ট্রোল অথরিটি জানায়, করাচিজুড়ে ৫৮৮টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।
পাকিস্তানজুড়ে ছাদ ও ভবন ধসের ঘটনা প্রায়ই ঘটে, যার প্রধান কারণ নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও দুর্বল নিরাপত্তা মানদণ্ড।
তবে দুই কোটির বেশি মানুষের আবাসস্থল করাচি বিশেষভাবে কুখ্যাত অপরিকল্পিত নির্মাণ, অবৈধ সম্প্রসারণ, পুরোনো অবকাঠামো, অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ এবং ভবনবিধি বাস্তবায়নে শিথিলতার জন্য।
সূত্র : ডন



