যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে কিউবার পাশে চীন

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্র কিউবার সমাজতান্ত্রিক সরকারকে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে আখ্যা দেওয়ার পর দেশটির সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে চীন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, চীন দৃঢ়ভাবে কিউবার জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার পক্ষে রয়েছে, বাইরের শক্তির অযৌক্তিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে এবং কিউবান জনগণের বেঁচে থাকা ও উন্নয়নের অধিকার কেড়ে নেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করে।
লিন আরও বলেন, চীন নিজেদের সর্বোচ্চ সক্ষমতার মধ্যে থেকে কিউবাকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
পারিয়ালা এক্স-এ লেখেন, দুই পক্ষ দুটি সমাজতান্ত্রিক দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্কের বিশেষ ও কৌশলগত চরিত্র পুনর্ব্যক্ত করেছে।
গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি কিউবাকে ‘শত্রু রাষ্ট্র, আন্তঃরাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং ক্ষতিকর শক্তির’ সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার অভিযোগ তোলেন।
ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া, চীন, ইরান এবং ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে কিউবার সামরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাকে ‘সরাসরি হুমকির’ মুখে ফেলছে।
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বৃহস্পতিবার বলেন, কিউবা কোনো সন্ত্রাসী দেশ নয়। কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্যও কোনো হুমকি নয়। আমরা সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিই না।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কারাকাসে তার বাসভবনে কমান্ডো অভিযানের মাধ্যমে অপহরণ করে। নিউইয়র্কের একটি আদালতে হাজির করার পর মাদুরো মাদক পাচার ও অস্ত্রসংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ট্রাম্প এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কলম্বিয়া ও নিকারাগুয়ার বামপন্থী সরকারগুলোর প্রতিও হুমকি দিয়েছেন। এ সপ্তাহে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে আতিথ্য দেন, যেখানে উভয় নেতা বৈঠকটিকে সৌহার্দ্যপূর্ণ বলে বর্ণনা করেন।
সূত্র: আরটি

