আগামীর সময়

কুয়েতে র‌্যাপিড সেন্ট্রি ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন যুক্তরাজ্যের

কুয়েতে র‌্যাপিড সেন্ট্রি ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন যুক্তরাজ্যের

সংগৃহীত ছবি

নিজেদের ও কুয়েতের স্বার্থ সুরক্ষায় র‌্যাপিড সেন্ট্রি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে যুক্তরাজ্য। উপসাগরীয় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ড্রোন হামলার পর এ ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।

শুক্রবার সকালে কুয়েতের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও লবণমুক্তকরণ প্ল্যান্টে ড্রোন হামলা হয়। এর আগের রাতেই দেশটির মিনা আল-আহমাদি তেল শোধনাগারে আরেকটি হামলা চালানো হয়। কুয়েতের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, এতে স্থাপনার কয়েকটি কার্যকরী ইউনিটে আগুন ধরে যায়।

কুয়েতের অবস্থান ইরান থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে।

ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ড্রোন হুমকি মোকাবিলার জন্য তৈরি স্বল্পপাল্লার অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা র‌্যাপিড সেন্ট্রি কুয়েতে মোতায়েন করেছে রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ)। এই ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৮ কিলোমিটার। ছোট ও দ্রুতগতির লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে।

গত মাসে আরএএফ রেজিমেন্টের কমান্ড্যান্ট জেনারেল এয়ার কমোডর পল হ্যামিলটন জানিয়েছিলেন, ‘কোনো ড্রোনকে ইলেকট্রনিক উপায়ে ঠেকানো না গেলে র‌্যাপিড সেন্ট্রি আমাদের বিশ্বাসযোগ্য কাইনেটিক সুরক্ষা দেয়।’

শুক্রবার সকালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ফোনে কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ খালিদ আল-সাবাহর সঙ্গে আলোচনা করেন। তাদের আলোচনায় এই মোতায়েনের বিষয়টিও ছিল।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, কুয়েতের তেল শোধনাগারে চালানো ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়েছেন স্টারমার। কুয়েত ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মিত্রদের পাশে থাকারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাজ্য ও কুয়েতের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব রয়েছে। এর আওতায় কুয়েত ন্যাশনাল গার্ডকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে আরএএফ।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোকে লক্ষ্য করে ছোড়া ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতেও কাজ করছে আরএএফ।

এই মোতায়েন এমন সময়ে হলো, যখন হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় তেহরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাজ্য। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এ পথ দিয়ে আনা-নেওয়া করা হয়। মার্চের শুরুতে ইরান তা বন্ধ করে দিলে সংকট সৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার ৪০টির বেশি দেশের অংশগ্রহণে এক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার। ওই বৈঠকে কীভাবে ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে প্রণালিটি খুলতে বাধ্য করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে কুপার জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান যদি কোনো ফি আরোপ করতে চায়, যুক্তরাজ্য তা প্রত্যাখ্যান করবে। ইরানকে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে জিম্মি করে রাখার সুযোগ দেওয়া যাবে না।

একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও আলোচনা করেছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রচেষ্টায় ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করছে।

    শেয়ার করুন: