সঙ্গী ছাড়া মেলে না খাবার

একজন ভ্রমণ লেখকের কাজের অংশ হলো একা কোনো শহরের খাবারের জগৎ ঘুরে দেখা, তবে এটি সবসময় সহজ হয় না এমনটাই বলেছেন সিএনএন ট্রাভেল এর ম্যাগি হিউফু ওং।
সপ্তাহের কাজের দিনে দুপুর তখন মাত্র একটা বাজে আর ম্যাগি হিউফু ওং সিউলের এক আধা-খালি রেস্তোরাঁর দরজায় গিয়ে দাঁড়ালেন। কাউন্টারের লোকটি তাকে স্বাগত জানালে সে তর্জনী উঁচিয়ে ইশারায় জানালেন যে সে একাই এসেছে।
দোকানি একটু থমকে গিয়ে অন্য একজনকে ডাকল কথাগুলো বুঝিয়ে বলার জন্য আর সেই লোকটা একদম সোজাসাপ্টা বলে দিল যে একজনের কোনো জায়গা এখানে হবে না।
কিমচি স্টু আর ভাজা মাংসের চমৎকার ঘ্রাণ নাকে এলেও সেই মুহূর্তে রেস্তোরাঁর দরজাটা তার মুখের ওপর গেল বন্ধ হয়ে। একা ভ্রমণের এই অপরাধে তখন তার মনে বিঁধল চরম অপমানের এক হুল।
সিউলে তার সাথে ঘটা এই ঘটনা একদমই কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় ছিল না। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে একা খেতে যাওয়া ইদানীং বেশ বড় এক বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। গত বছরের শেষের দিকে এক নুডলস দোকান তো রীতিমতো সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে জানিয়ে দিল যে একা গ্রাহকদের জন্য এখানে কোনো জায়গা নেই।
তারা বড় বড় অক্ষরে লিখে রাখল যে তারা একাকীত্ব বিক্রি করে না বরং খেতে চাইলে সাথে কোনো বন্ধু বা সঙ্গী নিয়ে আসতে হবে। ২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ৩৬ শতাংশেরও বেশি মানুষ যখন একা থাকছে, তখন এমন আচরণকে অনেকে দেখছেন চরম বৈষম্য হিসেবে।
খালি সিউলেই না, বরং বার্সেলোনা বা লন্ডনের মতো বড় শহরগুলোতেও একা ভোজনরসিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার প্রবণতা এখন বাড়ছে। তুর্কি এক রেস্তোরাঁ ব্যস্ত সময়ে একজন গ্রাহককে বসাতে না চেয়ে সংবাদ শিরোনামে এল সম্প্রতি।
একা খাওয়ার এই ভয়কে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় লোকে বলে সোলোম্যাঞ্জারেফোবিয়া। তবে খাদ্য বিষয়ক লেখক গ্লোরিয়া চুং মনে করেন যে একা খাওয়া মানেই বিড়ম্বনা না বরং জাপানের মতো দেশগুলোতে একা খাওয়ার জন্য আলাদাভাবে সাজানো থাকে সব আয়োজন।
এমনকি নাভার ম্যাপের মতো অ্যাপগুলো এখন সাহায্য করছে একা খাওয়ার উপযোগী রেস্তোরাঁ খুঁজে দিতে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো যে একা খাওয়া এখন লজ্জার কোনো বিষয় না থেকে বরং হয়ে উঠছে এক নতুন ট্রেন্ড। ওপেনটেবিল নামের প্রতিষ্ঠানের তথ্য বলছে যে ২০২৫ সালে একা খাওয়ার বুকিং বেড়েছে প্রায় ১৯ শতাংশের মতো।
সবচেয়ে অবাক করার মতো তথ্য হলো যে একা ডাইনাররা সাধারণ গ্রাহকদের চেয়ে ৫৪ শতাংশ বেশি টাকা খরচ করছেন খাবারের পেছনে। নিউইয়র্কের সারভোস রেস্তোরাঁটি এই সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগাচ্ছে যেখানে একা আসা মানুষদের জন্য বার কাউন্টারেই রাখা হয়েছে আয়েশ করে বসার দারুণ ব্যবস্থা।
প্রো-দের মতো একা ডাইনিং উপভোগ করতে চাইলে আমাদের জানতে হবে কিছু সহজ কৌশল। ভিড় এড়াতে খাওয়ার জন্য একটু অসময় বেছে নেওয়া সব সময় বুদ্ধিমানের কাজ হবে। শুক্রবারের রাতগুলো এড়িয়ে যদি দুপুর ১১টা বা বিকেল ৫টায় যাওয়া যায়, তবে রেস্তোরাঁর কর্মীরা বেশ হাসিমুখে দেবে আপনাকে সেরা সেবা।
ফোনের স্ক্রিনে মুখ গুঁজে না রেখে বরং সাথে একটা বই বা নোটবুক রাখলে সময়টা কাটবে দারুণভাবে। হাসি মুখে একজনের টেবিল চাইলে আর আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বললে একা ডাইনিং হয়ে উঠতে পারে নিজের সাথে সময় কাটানোর এক দারুণ মাধ্যম।
সূত্রঃ সিএনএন






