তাইপের আশঙ্কা
নিজ স্বার্থে তাইওয়ানকে চীনের হাতে তুলে দিতে পারেন ট্রাম্প

২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে অবস্থিত গিমহে বিমান ঘাঁটি থেকে আলোচনার শেষে বেরিয়ে আসার সময় একান্তে কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি : এএফপি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী সপ্তাহে বেইজিং সফরে আসছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ সুযোগে চীন তাইওয়ানের বিষয়ে কিছু ‘কৌশল’ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় নিশ্চিত করেছে, দ্বীপটি বিষয়ে তাদের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
বৃহস্পতিবার এক শীর্ষ তাইওয়ানি গোয়েন্দা কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ কথা বলেছেন।
চীন গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে তার নিজস্ব ভূখণ্ড বলে দাবি করে। কিন্তু তাইওয়ান সরকার বেইজিংয়ের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র তাইপে সরকারের কঠোর সমর্থক এবং চীন-ওয়াশিংটন সম্পর্কে এ বিষয়টি সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক কয়েক বছরে তাইওয়ানকে চাপে রাখতে বেইজিং নিয়মিতভাবে দক্ষিণ চীন সাগরে নৌ মহড়া পরিচালনা করে আসছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে।
তাইপের আশঙ্কা, ট্রাম্প চীনের কাছে মার্কিন বিমান বা কৃষি পণ্য বিক্রি এবং অর্থনৈতিক চাপ কমানোর বিনিময়ে তাইওয়ান বিষয়ে দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতিকে নরম বা পুনর্বিন্যাস করতে পারেন।
তাইপেতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জাতীয় নিরাপত্তা ব্যুরোর মহাপরিচালক সাই মিং-ইয়েন বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যু নিজেদের পক্ষে নিতে চীনা কমিউনিস্টরা আলোচনায় কিছু কৌশল অবলম্বনের চেষ্টা করতে পারে।
তবে এই বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রকাশ্য ও ব্যক্তিগত উভয় মাধ্যমেই ক্রমাগত আশ্বস্ত করে আসছেন যে, তাইওয়ান নীতিতে ওয়াশিংটনের কোনো পরিবর্তন আসেনি।
বৃহস্পতিবার চীনের তাইওয়ান বিষয়ক কাউন্সিলের মুখপাত্র লিয়াং ওয়েন-চিয়েহ স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তেমনটা না চাইলেও চীন এই শীর্ষ সম্মেলনে তাইওয়ানকে নিয়ে আলোচনা করতে খুবই আগ্রহী।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, তাইওয়ান ট্রাম্প ও শির আলোচনার একটি বিষয় হতে পারে, কিন্তু উভয় দেশই বোঝে যে তাইওয়ানকে ঘিরে কোনো অস্থিতিশীল ঘটনা কারোরই স্বার্থের জন্য ভাল নয়।
আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও কৌশলগত কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমর্থক এবং প্রতিরক্ষা চুক্তির ফলে আইনত দ্বীপটিকে আত্মরক্ষার উপকরণ সরবরাহ করতে বাধ্য।



