বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি দূতাবাসে হামলার হুমকি ইরানের

লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন। ছবি: সংগৃহীত
লেবাননের বৈরুতে থাকা ইরানি দূতাবাসে কোনো ধরনের হামলা হলে পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের সব দূতাবাসে হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছে ইরান।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি বুধবার এই হুমকি দেন।
এর আগে বৈরুত থেকে ইরান সরকারের প্রতিনিধিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লেবানন ছাড়ার নির্দেশ দেয় ইসরায়েল। এর প্রতিক্রিয়া শেকারচির এই হুমকি এলো।
গতকাল ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচায় আদরাই বলেছিলেন, ইরানি সরকারের প্রতিনিধি যারা এখনও লেবাননে আছেন তারা লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আগে অবিলম্বে চলে যান। এ সময় তিনি তাদের ২৪ ঘণ্টা সময় দেন।
এই হুমকি প্রসঙ্গে জেনারেল শেকারচি বলেছেন, ইসরায়েল নামক রাষ্ট্রটি বারবার আন্তর্জাতিক আইন এবং কূটনৈতিক রীতিনীতি লঙ্ঘন করে আসছে। তার অভিযোগ, এই ‘অপরাধী রাষ্ট্রটি’ কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক সীমানা বা রীতিনীতির তোয়াক্কা করছে না।
জেনারেল শেকারচি তার বক্তব্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ব্যাপক শক্তি থাকা সত্ত্বেও তারা এখন পর্যন্ত যথেষ্ট সংযম প্রদর্শন করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তেহরান এখন পর্যন্ত বড় কোনো সংঘাতে জড়ায়নি। শত্রুদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছেন, তবে এই সংযমকে দুর্বলতা ভাবা উচিত হবে না।
বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি দূতাবাসে হামলার হুমকি দিয়ে ইরানি এই জেনারেল বলেছেন, যদি লেবাননে ইরানি দূতাবাসে বিন্দুমাত্র আঘাত আসে, তবে ইরান বিশ্বজুড়ে থাকা সব ইসরায়েলি দূতাবাসকে ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করতে বাধ্য হবে।
ইরানের সামরিক মুখপাত্র আরও পরিষ্কার করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ছাড়া বিশ্বের অন্য কোনো দেশের সঙ্গে ইরানের কোনো ধরনের শত্রুতা বা বিরোধ নেই। তিনি পুনরায় অঙ্গীকার করেন যে, ইসরায়েল ও তার প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করার লক্ষে ইরান কাজ করে যাচ্ছে এবং এই সংকল্প থেকে তারা বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হবে না।
এই পরিস্থিতির পর বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি কূটনৈতিক মিশনগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

