আগামীর সময়

ট্রাম্পের চাপে মেক্সিকোর অভিযান, মোস্ট ওয়ান্টেড মাদক সম্রাট নিহত

ট্রাম্পের চাপে মেক্সিকোর অভিযান, মোস্ট ওয়ান্টেড মাদক সম্রাট নিহত

সংগৃহীত ছবি

মেক্সিকোর সেনাবাহিনী এক শক্তিশালী মাদক চোরাচালান গোষ্ঠীর (কার্টেল) নেতাকে হত্যা করেছে, যিনি মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশেই মোস্ট ওয়ান্টেড পলাতকদের একজন ছিলেন। দেশটির কর্তৃপক্ষ রবিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, সহিংস জলিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের ৫৯ বছর বয়সী নেতা নেমেসিও ওসেগুয়েরা তাপালপা শহরে সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন এবং মেক্সিকো সিটিতে নেওয়ার পথে মারা যান।

তাকে ধরিয়ে দিতে ১৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।

‘এল মেনচো’ নামে পরিচিত ওসেগুয়েরা হলেন মেক্সিকোর সবচেয়ে বড় মাদক সন্দেহভাজনদের একজন, যিনি সিনালোয়া কার্টেলের প্রতিষ্ঠাতা জোয়াকিন ‘এল চাপো’ গুজমান ও ইসমায়েল জাম্বাদার গ্রেপ্তারের পর থেকে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে নিহত বা গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পড়েন। তারা দুজনই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

রবিবারের বিবৃতিতে বলা হয়, মেক্সিকোর নিজস্ব সামরিক গোয়েন্দা তথ্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের ‘সম্পূরক তথ্যের’ ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ওসেগুয়েরা ছাড়াও সন্দেহভাজন ছয়জন বন্দুকধারী নিহত হয়েছে এবং তিন সেনা আহত হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে বিমান ভূপাতিত ও সাঁজোয়া যান ধ্বংসে সক্ষম রকেট লঞ্চারও রয়েছে।

এর আগে, নিরাপত্তা অভিযান চলাকালে প্রতিক্রিয়া হিসেবে পশ্চিমাঞ্চলীয় জলিস্কো অঙ্গরাজ্যে সশস্ত্র ব্যক্তিরা গাড়ি ও ট্রাকে আগুন ধরিয়ে সড়ক অবরোধ করে।

হাইভ্যালু লক্ষ্যবস্তুর দিকে অগ্রসর হওয়া পুলিশকে বাধা দিতে এ কৌশল ব্যবহার করা হয়।

সহিংসতা পার্শ্ববর্তী মিচোয়াকান অঙ্গরাজ্যেও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ওসেগুয়েরার কার্টেলের উপস্থিতি রয়েছে।

মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে গঠিত তার কার্টেলটি মেক্সিকোর অন্যতম সহিংস মাদক পাচারকারী সংগঠনে পরিণত হয়।

যুক্তরাষ্ট্র জলিস্কো কার্টেলকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কোকেন, হেরোইন, মেথঅ্যামফেটামিন ও ফেন্টানিল যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের অভিযোগ এনেছে।

মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে ওসেগুয়েরাকে ‘সবচেয়ে রক্তপিপাসু ও নির্মম মাদক সম্রাটদের একজন’ হিসেবে আখ্যা দেন।

তিনি বলেন, ‘এটি মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, লাতিন আমেরিকা এবং বিশ্বের জন্য একটি বড় অগ্রগতি। ভালোরা খারাপদের চেয়ে শক্তিশালী।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মধ্যেই এ অভিযান চালানো হয়। তিনি বিশেষ করে ফেন্টানিলসহ মাদকের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাহ বন্ধে মেক্সিকোর ওপর চাপ দিয়ে আসছেন।

ট্রাম্প বারবার মেক্সিকান রপ্তানির ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। তার দাবি ছিল, প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউমের সরকার মাদক বাণিজ্য দমনে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি।

    শেয়ার করুন: