আগামীর সময়

থাইল্যান্ডে ভোটগ্রহণ শুরু, ক্ষমতার দৌড়ে তিন প্রধান দল

থাইল্যান্ডে ভোটগ্রহণ শুরু, ক্ষমতার দৌড়ে তিন প্রধান দল

সংগৃহীত ছবি

থাইল্যান্ডে বহুল আলোচিত সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এই নির্বাচনে প্রগতিশীল সংস্কারপন্থী দল, সামরিক-সমর্থিত রক্ষণশীল শক্তি এবং জনতাবাদী দলগুলো ক্ষমতা দখলের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।


আজ রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় (গ্রিনিচ মান সময় ০১:০০) দেশজুড়ে ভোটকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং বিকেল ৫টা পর্যন্ত (গ্রিনিচ মান সময় ১০:০০) ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আগাম ভোটপর্বে ইতোমধ্যে ২২ লাখেরও বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ধীরগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বাড়তে থাকা জাতীয়তাবাদী আবহের মধ্যে থাইল্যান্ডের ৫ কোটি ৩০ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের সমর্থন পেতে লড়াইয়ে নেমেছে রাজনৈতিক দলগুলো।


যদিও ৫০টিরও বেশি দল এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, তবে কেবল তিনটি দল—পিপলস পার্টি, ভূমজাইথাই এবং ফেউ থাই—জাতীয় পর্যায়ে সংগঠন ও জনপ্রিয়তার দিক থেকে সরকার গঠনের বাস্তব সম্ভাবনা রাখে। মোট ৫০০টি সংসদীয় আসনের জন্য এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে, কোনো দলই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে না। ফলে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনাই বেশি। সংসদে নির্বাচিত সদস্যদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতাই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করবে।


প্রগতিশীল পিপলস পার্টি, যার নেতৃত্বে রয়েছেন নাত্তাফং রুয়েংপানিয়াওয়ুত, সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দলের সংস্কারমূলক এজেন্ডা—যার মধ্যে রয়েছে সামরিক বাহিনী ও আদালতের প্রভাব কমানো এবং অর্থনৈতিক একচেটিয়া শক্তি ভেঙে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি—প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে তারা একত্রিত হয়ে পিপলস পার্টিকে ক্ষমতার বাইরে রাখার চেষ্টা করতে পারে।


পিপলস পার্টি মূলত ২০২৩ সালের নির্বাচনে সর্বাধিক আসন জয় করা মুভ ফরওয়ার্ড পার্টির উত্তরসূরি। তবে সে সময় সামরিক নিযুক্ত সিনেটের বাধায় দলটি সরকার গঠন করতে পারেনি। পরবর্তীতে থাইল্যান্ডের কঠোর রাজপরিবার অবমাননা আইনে সংস্কারের আহ্বান জানানোর কারণে সাংবিধানিক আদালত দলটিকে ভেঙে দেয়।



সূত্র: আলজাজিরা

    শেয়ার করুন: