ইরানের শত্রুরা ‘পরাজিত’ হচ্ছে: নববর্ষের বার্তায় মোজতবা খামেনি

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা চললেও ইরানের শত্রুরা ‘পরাজিত’ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। পারস্য নববর্ষ উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক লিখিত বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইরানি টেলিভিশনে প্রচারিত ওই বার্তায় খামেনি নওরোজ উদযাপনকারী ইরানি জনগণের দৃঢ়তার প্রশংসা করেন বলেছেন, নতুন বছরটি শুরু হচ্ছে ‘জাতীয় ঐক্য ও জাতীয় নিরাপত্তার অধীনে প্রতিরোধমূলক অর্থনীতির বছর’ হিসেবে।
‘এই মুহূর্তে আপনাদের মধ্যে যে বিশেষ ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে, ধর্মীয়, বুদ্ধিবৃত্তিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, তার ফলে শত্রু পরাজিত হয়েছে’, বলেছেন তিনি।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুতে তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মনে করেছিল কয়েকদিনের হামলার পর ইরানি জনগণ সরকার উৎখাত করবে, কিন্তু এটি ছিল ‘মারাত্মক ভুল হিসাব’।
তিনি বলেছেন, এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ‘এই ভ্রান্ত ধারণা থেকে যে, শাসনব্যবস্থার শীর্ষ ব্যক্তি ও কিছু প্রভাবশালী সামরিক ব্যক্তিত্ব শহীদ হলে জনগণের মধ্যে ভয় ও হতাশা তৈরি হবে … এবং এর মাধ্যমে ইরানকে নিয়ন্ত্রণ ও পরে ভেঙে ফেলার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।’
বরং এর বিপরীতে ‘শত্রুর মধ্যেই ফাটল তৈরি হয়েছে’ বলে তিনি দাবি করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সংবিধান এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ক্ষমতার শূন্যতার পরিস্থিতিতেও রাষ্ট্রব্যবস্থা টিকে থাকতে পারে—এক ধরনের ‘সার্ভাইভাল প্রটোকল’ হিসেবে।
তুরস্ক ও ওমানে হামলার সঙ্গে ইরান বা তার মিত্ররা জড়িত নয় বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, এগুলো ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ ঘটনা, যা ইরানের শত্রুরা প্রতিবেশীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে ব্যবহার করছে এবং এমন ঘটনা অন্যান্য দেশেও ঘটতে পারে।
গত সপ্তাহে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ন্যাটোর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। আর ওমানের সোহার প্রদেশে ড্রোন বিধ্বস্ত হয়ে দুইজন নিহত হয়েছেন।
খামেনি আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে তাদের সংঘাত বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং সহায়তা করতে প্রস্তুত থাকার কথাও বলেছেন।

